সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ইএসপিএন এর প্রতিষ্ঠাতা বিল রাসমুসেন আর নেই। পার্কিনসন ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় মঙ্গলবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামাধ্যম ইএসপিএন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিল রাসমুসেনের মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করে ইএসপিএনের বর্তমান চেয়ারম্যান জিমি পিটারো বলেন, ‘বিল ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ, একজন দূরদর্শী ও উদ্ভাবক, যিনি কেবল খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে একটি সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তা বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।’
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে বিল রাসমুসেন এবং তার ছেলে স্কট মিলে উদীয়মান স্যাটেলাইট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টার খেলাভিত্তিক এক স্বতন্ত্র টেলিভিশন নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা শুরু করেন।এরপর ১৯৭৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ‘স্পোর্টস সেন্টার’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১.৪ মিলিয়ন গ্রাহকের ঘরে যাত্রা শুরু করে বহুল আলোচিত এই চ্যানেলটি। যা আজও ক্রীড়া সংবাদের এক অনন্য মাপকাঠি।
রাসমুসেন ছিলেন ইএসপিএনের প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং ১৯৭৯ সালের জুলাইয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের অক্টোবরে তিনি সংস্থাটির সক্রিয় ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ান।কারো কারো ধারণা, ইএসপিএনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিক গেটি অয়েল তখন রাসমুসেন ও তার ছেলে স্কটকে নেটওয়ার্ক থেকে সরিয়ে দেয়। সে সময় গেটির হাতে ছিল ইএসপিএনের ৮৫ শতাংশ মালিকানা।
তার হাত ধরেই টিভিতে ২৪ ঘণ্টার স্পোর্টস সম্প্রচার এবং এনসিএএ পুরুষ বাস্কেটবল টুর্নামেন্টের সরাসরি সম্প্রচার শুরু হয়েছিল।
শুরুতে মাত্র ৮০ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা করা ইএসপিএন বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫,৯০০ জনেরও বেশি কর্মীর এক বিশাল পরিবারে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আটটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, গ্লোবাল স্পোর্টস অ্যাপ ও অডিও সার্ভিসসহ ক্রীড়াজগতে নিজেদের একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্রীড়া সম্প্রচারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে ‘স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং হল অব ফেমে’ অন্তর্ভুক্ত হন বিল রাসমুসেন। এ ছাড়া মার্কিন ক্রীড়া ইতিহাসের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকা ‘স্পোর্টস ১০০’-এ স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।










































