১০২তম জন্মদিন। এই বয়সে এসে অনেকের কাছেই হয়তো বিশেষ কোনো ইচ্ছা পূরণ করার কথা ভাবাই কঠিন।কিন্তু কানাডার রিটা জর্জেফ তা মনে করেননি। বরং জীবনের এই বিশেষ দিনটিতে নিজের একটি পুরনো ইচ্ছা পূরণ করেছেন তিনি। ১০২ বছর বয়সে হেঁটে পেরিয়েছেন সদ্য নির্মিত গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু।
রিটার এই ব্যতিক্রমী জন্মদিন উদ্যাপনের গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।অন্টারিওর উইন্ডসরের স্যান্ডউইচ টাউন এলাকার বাসিন্দা রিটা ২৮ আগস্ট ১০২তম জন্মদিন উদ্যাপন করেন। আর জন্মদিনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্ত ছিল গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতুতে হাঁটা। গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু কানাডার উইন্ডসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েট শহরকে যুক্ত করেছে। ডেট্রয়েট নদীর ওপর তৈরি বিশাল এই সেতুর নির্মাণকাজ চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১০
স্থানীয় বাসিন্দারা অনেক দিন ধরে দূর থেকে সেতুটির নির্মাণ হতে দেখেছেন। তবে রিটার জন্য এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও ব্যক্তিগত স্মৃতি। তিনি এই এলাকায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন। তাই সেতুটি যখন তৈরি হচ্ছিল, তখনও এর নির্মাণকাজের অগ্রগতি দেখেছেন তিনি। সিটিভি নিউজকে রিটা জানান, যখন তার বয়স মাত্র সাত বছর, তখন তিনি পিটার রোড ও ইন্ডিয়ান রোডের মোড়ে থাকতেন।সেখান থেকেই সেতুর দিকে মানুষের ভিড় দেখতেন।
তবে তখন এত ছোট ছিলেন যে আসলে কী ঘটছে, তা বোঝার বয়স হয়নি তার। ১০২তম জন্মদিন যত ঘনিয়ে আসছিল, রিটা পরিবারের সদস্যদের একটি কথা বলতে শুরু করেন। শুধু দূর থেকে সেতুটি দেখতে চান না তিনি। নিজের পায়ে হেঁটে সেতুটি পার হতে চান। অবশেষে সেই ইচ্ছাই পূরণ হলো। রিতা বলেন, ১০০ বছর বয়সেই তিনি কাজটি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অপেক্ষা করতে হয়েছে আরো দুই বছর। পরিবারের সদস্য ও সেতুর কর্মীদের সহযোগিতায় শুরু হয় তাঁর বিশেষ যাত্রা। হাঁটার সহায়ক যন্ত্র নিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে ধীরে ধীরে সেতুর ওপর দিয়ে এগিয়ে যান রিটা। পথ চলতে চলতে উপভোগ করেন ডেট্রয়েট নদীর দৃশ্য এবং দুই পাশে থাকা উইন্ডসর ও ডেট্রয়েট শহরের বিস্তৃত দৃশ্য।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক পাঁচ দিনের রিমান্ডে
সেতুটির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রিটার কণ্ঠে ছিল আনন্দ। তিনি বলেন, বয়সের কারণে স্যান্ডউইচ স্ট্রিটে যাওয়া এখন কঠিন। তবে যখনই সেখানে যান, তখনই বুঝতে পারেন গর্ডি হাও সেতুটি শহরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। রিটার কাছে এটি শুধু একটি সেতু নয়। দীর্ঘ জীবনের নানা স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি দৃশ্যও। শৈশবে যে সেতুর নির্মাণকাজের দৃশ্য দূর থেকে দেখেছিলেন, ৯৫ বছর পর সেই সেতুর ওপরই দাঁড়িয়ে হাঁটলেন তিনি।
১০২ বছর বয়সে এমন একটি ইচ্ছা পূরণ করার পর রিটার কাছে এখন প্রশ্ন- পরের জন্মদিনে কী করতে চান তিনি? উত্তরটাও বেশ সহজ। রিটার ইচ্ছা, তিনি যেন তার পরের জন্মদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। হয়তো কোনো বড় স্বপ্ন নয়। কিন্তু ১০২ বছর বয়সে এসে জীবনের প্রতি এমন সরল ভালোবাসাই তার গল্পটিকে আরো বিশেষ করে তুলেছে।










































