নিত্যপণ্যের বাজারে সবজিতে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও আমিষে বড়ই অস্বস্তি। সরবরাহ বাড়ায় বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে।কিছু সবজি এখন ৫০ টাকা কেজি। তবে স্বস্তি নেই ডিম, মাছ ও মাংসের বাজারে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। একই সঙ্গে বেড়েছে আটা, ময়দা ও চিনির দাম।
চলতি মাসের শুরুতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্যাসসংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে আটা, ময়দা, চিনি ও ভোজ্য তেলের মতো পণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।বাজারে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই বাড়তি দামেই ডিম বিক্রি হচ্ছে। এর আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল। আটার দামও বেড়েছে। বর্তমানে দুই কেজির প্যাকেটজাত আটা ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।তিন-চার সপ্তাহ আগেও একই আটা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। খোলা আটা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৪৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আটার দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।
চিনির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগে তা ছিল ১১০ টাকা।
রাজধানীর বাড্ডার মুদি দোকানি জুবায়ের হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর পরও কম্পানিগুলো ঠিকমতো সরবরাহ দিচ্ছে না। চিনি, আটা ও ময়দার দামও বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন এখনো ১৫০ টাকা।’
তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বাড়ায় বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে রয়েছে। দেড়-দুই মাস আগে সরবরাহ কম থাকায় অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। বর্তমানে চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০ টাকা, পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামও চড়া। ফলে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ডিম, মাছ, মাংসসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে রয়েছেন ক্রেতারা।










































