ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান

ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোনের মহড়া চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে জাপান। এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে দেশটি সামরিক কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন জাপানের স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মাসায়োশি আরাই।

গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরাই বলেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করতে জাপানের কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। এর আগে জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছিল, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অক্টোবরের মাঝামাঝি ভারতে গিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র ও গোলাবর্ষণের প্রশিক্ষণক্ষেত্র পরিদর্শন করেন।

তবে এখনো কোনো ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা নির্বাচন করা হয়নি। মহড়া আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়নি।

জাপানের জন্য দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। দেশটির স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রধান বলেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর পাল্লার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা কঠিন। এ কারণে জাপানের ভেতরে উপযুক্ত প্রশিক্ষণক্ষেত্রের পাশাপাশি বিদেশের প্রশিক্ষণসুবিধাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

জাপানের নতুন টাইপ-২৫ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে।২০২৬ সালের মার্চে কুমামোতো অঞ্চলে এ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়। এর পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়। আগের টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ছিল প্রায় ২০০ কিলোমিটার।

গত ২৫ অক্টোবর জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড ২৭’-এর সময় জাপানের সেনারা টাইপ-২৫ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণব্যবস্থা স্থাপন ও প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তবে ওই সময় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি।

জাপান এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের গোলাবর্ষণ মহড়া চালিয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বালিকাতান’ মহড়ায় প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রশিক্ষণ নেয় দেশটির স্থল আত্মরক্ষা বাহিনী। সেখানে টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

ভারতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে জাপানের বিদেশে সামরিক মহড়া পরিচালনার বিকল্প বাড়বে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও জোরদার হতে পারে।

ভারত ও জাপান ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই দেশ কোয়াডের সদস্য হিসেবেও কাজ করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সামুদ্রিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে আলোচনাটি এখন পর্যন্ত ভারত ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের মধ্যে সীমিত। এটিকে কোয়াডের কোনো ঘোষিত সামরিক মহড়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোনের প্রশিক্ষণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেতার তরঙ্গের ব্যবহার, প্রশিক্ষণের ধরন, উপযুক্ত স্থান, পরিচালনাপদ্ধতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

এখনো সম্ভাব্য মহড়ার স্থান বা সময় ঘোষণা করা হয়নি। জাপানের অস্ত্রের পাল্লা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর কার্যকর প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে বের করা দেশটির সামরিক পরিকল্পনা ও কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY