ছবি : রয়টার্স
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে নতুন চিফ অব স্টাফ নিয়োগ দিয়েছেন। শনিবার চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস পদত্যাগ করেন এবং তার স্থলাভিষিক্ত হন ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার।তবে পলিটিকো জানিয়েছে, স্বামীর পদোন্নতির জন্য তদবির করেছিলেন স্টিফেন মিলারের স্ত্রী ক্যাটি মিলার।
অভিযোগ অস্বীকার করেননি ক্যাটি মিলার। বরং স্বামীর পদোন্নতির জন্য নিজের তদ্বিরের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ক্যাটি মিলার।
পলিটিকোর প্রতিবেদনটি শেয়ার করে ক্যাটি মিলার এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘স্বামীকে সমর্থন করে।আপনার স্ত্রী যদি এটি না করেন, তবে নতুন একজন খুঁজে নিন।’
পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাটি মিলার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চেয়ে তার স্বামী যদি আরো ভালো পছন্দ হন, তবে যেন তারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেন—এমন অনুরোধ তিনি তাদের করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যখন তৎকালীন হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের নিয়ে বিবেচনা করছিলেন, তখন ক্যাটি মিলারের এই লবিং প্রচেষ্টা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলেছিল।
খবর অনুযায়ী, ক্যাটি মিলার ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তির কাছে একাধিক ফোন কল করেছিলেন, যার মধ্যে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা রয়েছেন। স্টিফেনের সম্ভাব্য নিয়োগের পক্ষে যেন তারা সমর্থন প্রকাশ করেন, সেজন্য ক্যাটি তাদের অনুরোধ করেছিলেন বলে জানা গেছে। এই ফোন কলগুলো সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির মতে, ক্যাটি একজন যোগাযোগকারীকে বলেছিলেন যে সুজি ওয়াইলস যদি এই পদটি ছেড়ে দেন, তবে স্টিফেনের উচিত তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া। তিনি আরো যোগ করেছিলেন যে এই বার্তাটি যদি ট্রাম্পের সাথে শেয়ার করা যায়, তবে তিনি কৃতজ্ঞ থাকবেন। পলিটিকো জানিয়েছে যে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ওয়াইলসের বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।এই নামগুলোর মধ্যে ছিলেন ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক বিল পুল্টে, প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক হাউস স্পিকার কেভিন ম্যাককার্থি এবং নিউ ইয়র্ক ইয়াঙ্কিসের প্রেসিডেন্ট র্যান্ডি লেভিন। লি জেলডিন এবং সার্জিও গোর-এর নামও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নির্বাচনের পর ক্যাটির লবিং প্রচেষ্টা আরো জোরদার হয়। তবে, তার এই যোগাযোগের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে তিনি ওয়াইলসকে অপসারণের দাবি জানাননি। বরং ট্রাম্প যে এই পদে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন তা স্পষ্ট হওয়ার পরই তিনি নিজের প্রচেষ্টা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
হোয়াইট হাউসও স্টিফেন মিলারকে সমর্থন করেছে এবং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাকে একজন অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ক্যাটি, যিনি এর আগে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে কাজ করেছিলেন এবং ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি উদ্যোগের সাথে জড়িত ছিলেন, তিনি পলিটিকোর কাছে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে এক্সে দেওয়া তার এই প্রতিক্রিয়াটি স্বামীর সম্ভাব্য পদোন্নতির পক্ষে তার ভূমিকার প্রতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি











































