সংগৃহীত ছবি
অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় চাপে রয়েছে পাকিস্তান। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ এবং ভারতের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেশটির পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে ছোট ছোট প্রদেশে ভাগ করার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর ফার্স্টপোস্ট
সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে ক্ষুধা ও অপুষ্টির পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। দেশটির প্রায় ৩৩ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির এবং জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহে মানুষের সীমিত সামর্থ্য এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সংকট শুধু খাদ্যনিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ খাতের বিপুল দেনা এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এসব সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হচ্ছে।
পাকিস্তানে পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ৩০০ রুপি ছাড়িয়েছে।এর পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশটির বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের অদক্ষতাকেও দায়ী করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া দেনার পরিমাণ ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রমবর্ধমান লোকসান এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) সক্ষমতা বাবদ উচ্চ ব্যয়।
দেশটির বৃহত্তম শহর করাচিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কে-ইলেকট্রিক সম্প্রতি নতুন করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগে থেকেই বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগতে থাকা শহরটিতে এ সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগ আরো বাড়িয়েছে।তুলনামূলক ভালো বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পরিচিত রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলগুলোও নেতৃত্ব দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতাও বাড়ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আটক রাখা এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তার সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসুস্থ ইমরান খান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগেরও সীমিত সুযোগ পাচ্ছেন।
এর মধ্যে গত ১১ অক্টোবর ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নিয়ন্ত্রণে থাকা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করেছে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে প্রদেশটিতে হাজার হাজার সমর্থক মিছিল করেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের সমালোচনা করেন। কঠোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও এসব বিক্ষোভে মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এক হাজারের বেশি পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে বিভিন্ন সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। সেতুতে বালুর বস্তা রাখা হয় এবং রাজধানীতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি রাজধানীতে ২২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপের কারণে বিক্ষোভ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাপকতা পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জরুরি ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে।










































