ছবি : রয়টার্স
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়েছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান ও তারকা ফুটবলার মোস্তফা জিকো। ফিফার কঠোর নিষেধাজ্ঞার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ব্যক্তিগত জীবন ও ডাগআউটের নানা বিতর্কের জেরে মিসর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে হোসামকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করেছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কোচ হোসামকে বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘তিনি দলের ইতিবাচক ভাবমূর্তির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন।’ একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাকে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এর বাইরে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মিসরীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ফুটবলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বাইরেও কোচের ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিতর্ক ও কেলেঙ্কারিই তাকে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো।
সাম্প্রতিক সময়ে দলের মহাতারকা মোহামেদ সালাহর সঙ্গে তার মতবিরোধের জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, যার জেরে লিভারপুলের সাবেক এই তারকা ক্যাম্প ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলেও খবর চাউর হয়েছিল। তবে তার চেয়েও বড় ধাক্কা আসে কোচের ব্যক্তিগত জীবনের নানা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর।
গত সপ্তাহে মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল ফর মিডিয়া রেগুলেশন এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে কোচ হোসাম হাসানকে সব ধরনের গণমাধ্যমে উপস্থিত হওয়া বা সাক্ষাৎকার দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। জাতীয় দলের কোনো কোচের বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক পদক্ষেপ এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি এক অদ্ভুত পারিবারিক কলহ ও মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন হোসাম। উত্তর উপকূলের একটি অভিজাত হোটেলে বর্তমান স্ত্রী ড্যান অ্যাডামের সঙ্গে অবকাশ যাপনের সময় আকস্মিকভাবে সেখানে হাজির হন তার সাবেক স্ত্রী হুবাইদা ও সন্তানরা। মুহূর্তেই পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ হাতাহাতি ও হট্টগোল শুরু হয়। পারিবারিক এই দ্বন্দ্ব ও চরম চাপের মুখোমুখি হয়ে একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে হোটেলের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন হোসাম। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মিসর জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি খেলোয়াড় হোসাম হাসান। তিনিই প্রথম কোনো দেশীয় সাবেক ফুটবলার হিসেবে মিসরের ডাগআউটের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তার অধীনে দারুণ ও লড়াকু ফুটবল খেলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল মিসর। তবে শেষ ষোলোর সেই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ গোলের হৃদয়ভাঙা হারে শেষ হয়েছিল তাদের সেই সোনালী স্বপ্নযাত্রা।
হোসাম হাসানকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করার পর শূন্য স্থানে নতুন কোচ হিসেবে আলী মাহেরকে নিয়োগ দিয়েছে মিসর। অভিজ্ঞ এই কোচ এতদিন মিসরীয় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ‘সেরামিকা ক্লিওপেট্রা’-র প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, পয়েন্ট টেবিলে যাদের বর্তমান অবস্থান চতুর্থ।









































