ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ১৭ জন বাংলা ভাষাভাষী নারী-পুরুষকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অন্যদিকে পঞ্চগড়ে পৃথক দুটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১১ জন নারী ও শিশুকে পুশ-ইন করেছে।
এছাড়া সীমান্তে মানুষ হত্যা, ড্রোন উড়ানো, পুশ-ইন বন্ধসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার বিপরীতে ভারতীয় অংশে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ভোর ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের রামপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ১৭ জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হরিপুর থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- যশোরের বেনাপোল এলাকার পারভীন বেগম, শার্শা উপজেলার নুরুন নাহার বেগম, সদর উপজেলার শায়না শেখ, ঝিকরগাছা উপজেলার রহিমা গাজী, মনিরামপুর উপজেলার বিলকিছ বেগম এবং কালিয়া উপজেলার লাভলী। এছাড়া আছেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার লাভলী, সামিউল মোল্লা ও আফসানা মোল্লা। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলাম, নুরতাজ বেগম, সায়রা খাতুন ও সাহেল। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের নাসিমা বেগম। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ময়না বেগম ও বরিশালের গৌরনদীর নাছিমা বেগম।
পঞ্চগড়ের পৃথক দুটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফ ১১ জন নারী ও শিশুকে পুশ-ইন করেছে। পরে সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করে বোদা থানা পুলিশে হস্তান্তর করে বিজিবি। নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াদ মুর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত তাদের পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মালকাডাঙ্গা ও কাজল দিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের ডানাকাটা সীমান্ত এলাকা দিয়ে পুশ-ইন করা হয়। আটক সবাই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।
শনিবার বিকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান।
দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর সীমান্তের বিপরীতে শূন্য লাইনে ভারতীয় অংশে বিএসএফের আহ্বানে বিজিবি-বিএসএফের ব্যাটালিয়ান কমান্ডার পর্যায়ে এ পতাকা বৈঠক হয়।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সম্প্রতি ঠাকুরপুর থেকে মুন্সিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতিতে সীমান্ত এলাকার ভারতীয় পার্শ্বে পোস্ট/বাংকার নির্মাণ করাসহ বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরেন। সীমান্তের শূন্য লাইন এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান আরও বলেন, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম, চোরাচালান প্রতিরোধ, টহল তত্পরতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় ব্যাটালিয়ন কমান্ডাররা একমত পোষণ করেন।
বিএসএফের পক্ষে কমান্ড্যান্ট জানান, বর্ষা মৌসুমে বিএসএফ সদস্যেদের ডিউটি করার সুবিধার্থে সীমান্তে বিদ্যমান পুরনো পোস্টগুলো সংস্কার ছাড়া নতুন কোনো পোস্ট নির্মাণ করা হবে না।
তিনি জানান, স্থানীয় বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার কতৃক নির্মিত অস্থায়ী বাংকারটি ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে।
ড্রোন উড্ডয়নের বিষয়ে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট জানান, সীমান্তবর্তী ভারতীয় নাগরিক কতৃক খেলনা ড্রোন উড্ডয়ন করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে বিএসএফের পক্ষ হতে নিষেধ করা হয়েছে।
পুশ-ইনের বিষয়ে তিনি বিজিবি অধিনায়কের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইনের মতো কোনো ঘটনা সংঘটিত হবে না।
পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান এবং বিএসএফের ১৬১ ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্ট শ্রী সুভাষ চন্দ্র গাঙ্গুয়ার। এ সময় উভয় দেশের স্টাফ অফিসার, কোম্পানি কমান্ডার ও ক্যাম্প কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।









































