বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার, সিলেটের জকিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কোথাও কোথাও নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে কাঁচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ভেঙে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। 

নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আখাউড়ায় অর্ধশতাধিক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। 

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়,

মৌলভীবাজার : জেলার নদী ও হাওড়ের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মনু নদীর পানি শহরের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে সোমবার বেলা ৩টায় বিপত্সীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ও জুড়ী নদীর পানি ১৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর পানি বিপত্সীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে জেলা ও উপজেলা শহরসহ অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক ও বড় সড়ক। মনু নদীর তীরবর্তী (বাঁধের ভেতর) অনেক স্থানে বসতঘরেও পানি উঠেছে।

জকিগঞ্জ (সিলেট) : জকিগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর অন্তত তিনটি স্থানে বাঁধ (ডাইক) ভেঙে ও বাঁধের ওপর দিয়ে পানি উপচে পৌর শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দোকানপাট ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শহরের অলিগলি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ৪০ থেকে ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

জকিগঞ্জ পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমদ রনি বলেন, সারা রাত বাঁধে বস্তা ফেলা হলেও বাঁধের ওপর দিয়ে পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। জকিগঞ্জ শহর ভেসে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ কেউ খোঁজখবর নিচ্ছেন না। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, ভারতে বৃষ্টিপাত কমে এসেছে। আশা করা যায়, আগামী দুদিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : আখাউড়ার সীমান্তবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় সাড়ে চারশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে তাদের বাড়িঘর। উপজেলা প্রশাসন এসব পানিবন্দি মানুষের জন্য ১১টি স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। অর্ধশতাধিক পরিবারকে বিভিন্ন নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য ত্রাণসামগ্রী দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। 

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম রাশেদুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।  

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : বাঁশখালীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। পুইছড়ি ইউনিয়নের নাপোড়া এলাকার পূর্ব চালিয়াপাড়া সড়কটির এক পাশ ভেঙে গেছে। ভারি বর্ষণ ও সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশ করে অধিকাংশ সড়ক ভেঙে পড়েছে।

রাঙামাটি : রাঙামাটিতে বৃষ্টি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসে সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অতি বৃষ্টিতে কাউখালী-ঘিলাছড়ি এবং জুরাছড়ির যক্ষ্মাবাজারের হাসপাতাল সড়ক ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। লংগদু ও জুরাছড়িতে নির্মাণাধীন দুটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাউখালী-ঘিলাছড়ি সড়কে পুরোনো একটি কালভার্ট ধসে যাওয়ায় সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড় ধসে ৫৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ৬ হাজার ২৮০ হেক্টর ফসলি জমির। দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫৪০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি : জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সোমবার সকালে দীঘিনালার মাইনী নদীর পানি বেড়ে মেরুংয়ের সোবাহানপুর, চিটাগাং ইয়্যাপাড়া, মেরুং বাজার সংলগ্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। একাধিক স্থানে সড়ক ডুবে যাওয়ায় লংগদুর সঙ্গে খাগড়াছড়ির যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে ৩৭টি পরিবার। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। এদিকে সোমবার সকালে বিএনপির পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন নেতারা।

LEAVE A REPLY