ছবিসুত্র : এএফপি
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কাটসিনা প্রদেশে অপুষ্টিজনিত কারণে অন্তত ৬৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় অনুদানদাতাদের বাজেট কাটছাঁটের ফলে এই বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, ‘আমরা বর্তমানে বিপুল মাত্রায় বাজেট হ্রাস প্রত্যক্ষ করছি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে অপুষ্ট শিশুদের চিকিৎসাসেবায়।
’ কাটসিনা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
দস্যুতা, সশস্ত্র হামলা এবং সহিংসতার কারণে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং তারা নিজেদের কৃষিকাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। সরকার এবং স্থানীয় সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবী দলগুলো মিলে দস্যুতা দমন করতে চাইলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে।
এমএসএফ জানিয়েছে, চলতি বছর কাটসিনায় সবচেয়ে গুরুতর ধরনের অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০৮ শতাংশ বেড়েছে।
দুঃখজনকভাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে ৬৫২ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে বলে সংস্থাটি জানায়। অন্যদিকে, বুধবার জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংস্থা (ডাব্লিউএফপি) জানায়, জুলাই মাসের শেষ নাগাদ উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার ১৩ লাখ মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা স্থগিত করতে বাধ্য হবে তারা, কারণ মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
নাইজেরিয়া সরকার এ বছর স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক অনুদান হ্রাসের ঘাটতি পূরণে ২০০ বিলিয়ন নাইরা (প্রায় ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাজেট বরাদ্দ করেছে। তবে এমএসএফ বলছে, কেবল আর্থিক বরাদ্দ নয়, বাস্তবায়ন ও মানবিক সহায়তার ঘাটতিও এই বিপর্যয়কে আরো তীব্র করেছে।
মানবিক সংস্থাগুলো এখন জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে, বিশেষ করে শিশুদের জীবন রক্ষায় দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে।
সূত্র : রয়টার্স







































