লেবাননের সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আদনান হুসেইন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি চাপের মুখে হিজবুল্লাহ কখনোই তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে না এবং লেবাননে ও গোটা অঞ্চলে ওয়াশিংটনের চালানো ষড়যন্ত্রের বিপরীতে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।
মেহর নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুসেইন দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মার্কিন দূত টম ব্যারাকের তৃতীয়বারের সফরের পর লেবাননে প্রতিরোধের অবস্থান, এবং ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতার প্রসঙ্গে কথা বলেন।
মার্কিন দূতের সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টম ব্যারাক যখন তৃতীয়বার লেবাননে আসেন, তিনি হতাশা প্রকাশ করেন, কারণ তিনি আশা করেছিলেন যে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জোসেফ আওন আগের কর্মকর্তাদের চেয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাবেন। এই হতাশা থেকে বোঝা যায়, লেবাননের ওপর আরও চাপ আসছে। যদি তারা মার্কিন ষড়যন্ত্রে ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে এই চাপ আরও বাড়বে। এর মানে হলো, ইসরাইলকে লেবাননে আরও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ দেওয়া হবে—যার মধ্যে রয়েছে ড্রোনের অবাধ ও লাগাতার উড্ডয়ন এবং ত্রিপোলি ও উত্তর বেকার আকাশে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।’আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইসরাইলকে চাপ দেবে কি না—এই প্রশ্নে হুসেইন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসন সবসময়ই লেবাননের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বাইডেন প্রশাসন তেল আবিবকে ধ্বংসাত্মক সব অস্ত্র ও সহায়তা দিয়েছে। পুরো পশ্চিমা বিশ্ব কখনোই ইসরাইলকে চাপ দেয় না, দেবে না। গাজায় যা ঘটছে, তা-ই এর প্রমাণ। হামাস বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু ইসরাইল সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ইসরাইলকেই সঠিক মনে করে। তারা কখনোই বলে না যে হামাসের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য। বরং তারা বলে, ইসরাইলকে আত্মরক্ষা করতে হবে। হোয়াইট হাউজে এই নীতিই এখনও চলছে। কেউ কখনো ভাবেনি যে যুক্তরাষ্ট্র একদিন ইসরাইলকে চাপ দেবে।’

‘মার্কিন প্রকল্প’ ও মধ্যস্থতার নামে ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে—বিশেষ করে প্রস্তাবের চূড়ান্ত সংস্করণ। তারা জাতিসংঘের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবকে অতিক্রম করে হিজবুল্লাহর অস্ত্র পুরো লেবাননজুড়ে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। এমন প্রস্তাব কি কোনো দেশ গ্রহণ করতে পারে? যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিরপেক্ষ মধ্যস্থতার ভূমিকা বাদ দিয়ে ইসরাইলি আগ্রাসনের অংশীদারে পরিণত হয়, তখন হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকার কী বলবে? স্বাভাবিকভাবেই হিজবুল্লাহ তাদের অস্ত্র শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে।’আরও পড়ুন
লেবাননের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও মার্কিন উসকানি সম্পর্কে হুসেইন বলেন, ‘অবশ্যই, লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভক্তির ঝুঁকি আছে। আর এটাই এখন যুক্তরাষ্ট্র সব আরব দেশে করছে। আমরা দেখেছি সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া এমনকি আফগানিস্তানেও কী ঘটেছে। মূল হুমকি হলো—যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে লেবাননবাসীর মধ্যে মতপার্থক্য। আমরা বলি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সব চাপের সেরা জবাব হলো জাতীয় ঐক্য।’
তিনি যোগ করেন, ‘গোটা লেবাননের জন্য সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো এই জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা। এই ঐক্যই লেবানন সেনাবাহিনী বা হিজবুল্লাহর যেকোনো অস্ত্রের চেয়ে শক্তিশালী। যদি এই ঐক্য গড়ে তোলা যায়, তবে কৌশলগত ও সামরিকভাবে ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া সম্ভব হবে।’











































