ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের অনড় অবস্থানের কারণ কী?

ছবিসূত্র : এএফপি

সম্প্রতি রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তোকে অনুষ্ঠিত ‘ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম’-এ অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের মাটিতে কোনো বিদেশি সেনা, এমনকি শান্তিরক্ষী বাহিনীও মোতায়েন করা হলে, সেগুলোকে রাশিয়া ‘বৈধ নিশানা’ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং ধ্বংস করা হবে। তার এই বক্তব্যের পর পুরো হলরুম করতালিতে ফেটে পড়ে। রাশিয়ার কর্মকর্তারা এবং ব্যবসায়ী নেতারা এ হুমকিকে যেন একধরনের দৃঢ় সংকল্প হিসেবে স্বাগত জানান।

এই ঘটনার সময়টা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর ঠিক আগেই ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর জোট ‘কোলেশন অব দ্য ইউলিং’ ঘোষণা করেছে, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা একটি  ‘বাহিনী’ গঠন করবে। এর পরদিনই পুতিনের পক্ষ থেকে এমন হুমকি এসেছে। এর ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরো বেড়ে গেল।

পুতিন আরো বলেন, তিনি চাইলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, তবে সেটি হতে হবে মস্কোতে। রাশিয়ার ‘হিরো সিটি’ উপাধি পাওয়া রাজধানীতে। পুতিন বলেন, ‘এর জন্য সেরা স্থান রাশিয়ার রাজধানী, হিরো সিটি মস্কো।’

এই প্রস্তাবেও উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে করতালি ওঠে।তবে আন্তর্জাতিক মহল এ প্রস্তাবকে গুরুত্বহীন এবং ‘রাজনৈতিক ট্রলিং’ হিসেবে দেখছে। তবে অনেক দিক থেকে এটি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ক্রেমলিনের বর্তমান অবস্থানকে পুরোপুরি প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে বোঝা যায়—ক্রেমলিন এখনো বিশ্বাস করে যে শান্তি হতে পারে, তবে তা শুধুমাত্র তাদের শর্তে।

রাশিয়ার এই অনমনীয় অবস্থানের পেছনে রয়েছে কয়েকটি বিষয়। প্রথমত, ইউক্রেনে বর্তমানে রুশ বাহিনী কিছু কৌশলগত অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে মস্কোর ধারণা।

দ্বিতীয়ত, চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়ার মতো বিশ্ব শক্তিধর বন্ধুদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো থেকে রাশিয়া নতুন কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাস পেয়েছে। তৃতীয়ত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে পুতিন ইতিবাচক বার্তা পেলেও, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার হুমকি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি—এটিও রাশিয়ার অবস্থানকে দৃঢ় করেছে।

পুতিন বলেছেন, তিনি ‘টানেলের শেষে আলো’ দেখতে পাচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া আর ইউক্রেন ও ইউরোপ যেন এখন দুই ভিন্ন টানেলে রয়েছে—দুই দিকেই গতি আছে, কিন্তু গন্তব্য আলাদা। ইউক্রেন ও তার মিত্ররা যেখানে যুদ্ধের অবসান চায় এবং কিয়েভের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। সেখানে পুতিনের ‘আলো’ মানে রাশিয়ার বিজয় এবং এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা, যেখানে রাশিয়া থাকবে কেন্দ্রে।

পুতিন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা শান্তি চাই, কিন্তু শুধু আমাদের শর্ত সাপেক্ষে। আমাদের শর্ত মানবেন না? তাহলে শান্তি নেই।’  এই পরিস্থিতিতে শান্তির সম্ভাবনা এখনো বহু দূরে, আর দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি যতদিন ভিন্ন থাকবে, ততদিন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানও অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র : বিবিসি
 

LEAVE A REPLY