অর্থনীতির সংস্কারে প্রধান উপদেষ্টার প্রশংসায় আইএমএফ প্রধান

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির অভাবনীয় ঘুরে দাঁড়ানোকে ইউনুসের নেতৃত্বের কৃতিত্ব বলে উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জর্জিয়েভা বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রফেসর ইউনুসের সঙ্গে আলোচনা করেন।

জর্জিয়েভা বলেন, ‌‌‘আপনার অর্জন আমাকে মুগ্ধ করেছে। আপনি এমন সময় দায়িত্ব নিয়েছিলেন যখন দেশের অবনতির ঝুঁকি খুব বেশি ছিল। আপনি সঠিক সময়ে সঠিক ব্যক্তি হিসেবে উঠে এসেছেন।’

আইএমএফ প্রধান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরুদ্ধারকে। তিনি বলেন, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মতো সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস এ সময় আইএমএফ প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে আপনার সমর্থন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ 

তিনি নিউইয়র্কে গত বছরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সময় জর্জিয়েভার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, সেই সাক্ষাৎ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে আগামী ফেব্রুয়ারি রমজান মাসের আগে নির্ধারিত সময়ে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, নির্বাচন শেষে তিনি তার পূর্বের কাজে ফিরে যাবেন।

ফোনালাপে আইএমএফ প্রধান বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের এই অমূল্য সময়ে শক্ত অবস্থানে যেতে হলে সাহসী সংস্কার অনিবার্য।’

অধ্যাপক ইউনূস জানান, সরকার ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা একেবারে ভেঙে পড়া অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। কেউ কেউ আক্ষরিক অর্থে ব্যাগভর্তি টাকা ব্যাংক থেকে চুরি করে পালিয়ে গেছে।’

আলোচনায় আঞ্চলিক বিষয়ও উঠে আসে। অধ্যাপক ইউনূস নেপালের চলমান যুব আন্দোলন এবং বাংলাদেশের আসিয়ানভুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি ঢাকার নতুন বন্দর ও টার্মিনাল প্রকল্পসহ বড় ধরনের অবকাঠামোগত উদ্যোগের অগ্রগতি সম্পর্কেও অবহিত করেন।

এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ও অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY