ইতালি-ইসরায়েল ম্যাচের আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

ছবি : রয়টার্স

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর উদিনে মঙ্গলবার ইসরায়েলের বিপক্ষে ইতালির বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে ফিলিস্তিনপন্থী হাজারো বিক্ষোভকারী রাস্তায় মিছিল করেন। বেশিরভাগ সময় শান্তিপূর্ণভাবে চললেও বিক্ষোভের শেষ দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।

পুলিশের প্রাথমিক হিসেবে, প্রায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ এ মিছিলে অংশ নেন। শহরের কেন্দ্র ঘুরে ফ্রিউলি স্টেডিয়ামের দিকে মিছিলটি এগিয়ে যায়, সেখানে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে) শুরু হয় ইতালি বনাম ইসরায়েল ম্যাচ।

ম্যাচে ইতালি ৩–০ গোলে জয় পায়।

বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ‘কমিটি ফর প্যালেস্টাইন–উদিনে’ ফিফার কাছে দাবি জানায়, ইসরায়েলকে সব ধরনের ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হোক। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলি দল ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদার নীতিকে সমর্থন’ করছে।

বিক্ষোভকারীরা ১৮ মিটার দীর্ঘ ফিলিস্তিনি পতাকা এবং ‘ইসরায়েলকে লাল কার্ড দেখাও’ লেখা বড় লাল ব্যানার বহন করেন।

ন্যায়বিচারের প্রতীক একটি ধাতব ভাস্কর্যকে দেখা যায়— এক হাতে দাঁড়িপাল্লা, অন্য হাতে লাল কার্ড ধরা অবস্থায়।

ভ্যালেন্তিনা বিয়াঙ্কি নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু শান্তি আসেনি। ন্যায়বিচার ছাড়া কখনো শান্তি সম্ভব নয়।’

তবে মিছিলের শেষ দিকে কিছু বিক্ষোভকারী আতশবাজি ও ধাতব ব্যারিকেড ভাঙলে দাঙ্গা–নিয়ন্ত্রণ পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইতালির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রাই জানায়, তাদের এক সাংবাদিক পাথরে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছে, আরো একজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিয়েছেন।

উদিনের মেয়র আলবার্তো ফেলিচে দে টনি বলেন, ‘আজ রাতে যা ঘটেছে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমাদের শহর এই সহিংসতাকে কঠোরভাবে নিন্দা জানায়।’

ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশন জানায়, ম্যাচটির জন্য প্রায় ৯ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা নিরাপত্তাজনিত কারণে কমিয়ে দেওয়া ১৬ হাজার আসনের তুলনায় অনেক কম।

বিক্ষোভের আশঙ্কায় শহরের অনেক দোকান সারাদিন বন্ধ ছিল। স্থানীয় প্রশাসনও নেয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা—রাস্তা ও পার্কিং বন্ধ রাখা, স্টেডিয়ামের চারপাশে কংক্রিট ব্যারিকেড বসানো, এবং কাচ, সিরামিক বা টিনের পাত্রে খাবার পরিবেশনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ইত্যাদি।

LEAVE A REPLY