আমরা শান্তি চাই, তবে দাসত্বপূর্ণ শান্তি নয় : নিকোলাস মাদুরো

১ ডিসেম্বর কারাকাসে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে নতুন কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনগুলোর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট জাতীয় পতাকায় চুম্বন করছেন। ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলা ‘দাসত্বপূর্ণ শান্তি’ চায় না বলে সোমবার হাজারো সমর্থকের সামনে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক মোতায়েনকে ঘিরে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা তার ভাষায় কয়েক মাস ধরে দেশটিকে ‘পরীক্ষার মধ্যে’ রেখেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েন, মাদক বহনকারী সন্দেহে নৌযানে হামলা এবং ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা এড়িয়ে চলার হুঁশিয়ারির মাধ্যমে মাদুরোর ওপর চাপ বাড়িয়েছেন।

কারাকাসে এক সমাবেশে মাদুরো বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, কিন্তু তা হবে সার্বভৌমত্ব, সমতা ও স্বাধীনতার সঙ্গে! আমরা দাসত্বপূর্ণ শান্তি চাই না, উপনিবেশের শান্তিও চাই না!’

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় এ মন্তব্য করেন মাদুরো।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরিসহ অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ লাতিন আমেরিকায় মোতায়েন করেছে এবং মাদুরোর পরিচালিত বলে অভিযোগ করা একটি মাদকচক্রকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে একের পর এক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় অন্তত ৮৩ জন নিহত হলেও তারা নিহতদের মাদক পাচারকারী ছিল—এমন কোনো প্রমাণ দেয়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, লক্ষ্যবস্তু মাদক পাচারকারী হোক বা না হোক—এই হামলাগুলো যেকোনো ক্ষেত্রেই অবৈধ।

ওয়াশিংটন বলছে, এই সামরিক মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো অঞ্চলে মাদক পাচার দমন করা। তবে কারাকাসের দাবি, এর মূল লক্ষ্য হলো সরকার পরিবর্তন, আর সে কারণেই মাদুরো নিজ দেশের সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করেছেন।

মাদুরো সোমবার বলেন, ‘আমরা ২২ সপ্তাহ ধরে এমন আগ্রাসন সহ্য করেছি, যাকে মানসিক সন্ত্রাস বলা যায়। এই ২২ সপ্তাহ ধরে তারা আমাদের পরীক্ষা করেছে।

ভেনেজুয়েলার জনগণ তাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রমাণ করেছে।’

গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমাকে ‘বন্ধ’ বলে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দেন, যা আসন্ন সামরিক অভিযানের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

ট্রাম্প রবিবার বলেন, জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি সম্প্রতি প্রথমবারের মতো মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে তিনি বিস্তারিত জানাননি। অন্যদিকে মাদুরো বহুবার বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

কারাকাসে সোমবার শত শত সরকার–সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’র বিরুদ্ধে মিছিল করেন।

দেশটি বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত।

৬৮ বছর বয়সী স্থানীয় নেতা নারসিসো তোরেয়ালবা বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন মাতৃভূমি, আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা শান্তি চাই!’

৫৪ বছর বয়সী সিরিলো কাজোরলা যোগ করেন, ‘যার সঙ্গে প্রয়োজন, আমরা তার সঙ্গেই সংলাপে প্রস্তুত, কিন্তু কখনোই আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ত্যাগ করব না, কখনোই মাতৃভূমিকে বিক্রি করব না।’

LEAVE A REPLY