ফাইল ছবি : রয়টার্স
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরিতে (আইসিটি) দুই মাসের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনারের পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে একই বিধি-নিষেধ আরোপের আদেশ দেওয়া হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা একটি আইনগত ব্যবস্থা, যা জেলা প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো এলাকায় চারজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেয়।
ইসলামাবাদ ম্যাজিস্ট্রেটের ১৮ নভেম্বর তারিখ লেখা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সমাজের কিছু অংশ ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরির আওতাধীন এলাকায় বেআইনি সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে’, এ কারণে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
তবে কী ধরনের বেআইনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা ইসলামাবাদের রাজস্বসীমার মধ্যে—রেড জোনসহ—‘পাঁচজন বা তার বেশি ব্যক্তির সব ধরনের জমায়েত, মিছিল/র্যালি ও বিক্ষোভ’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, ‘জনশান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যেসব অবৈধ কর্মকাণ্ড হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।’
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং দুই মাসের জন্য বলবৎ থাকবে।
’ আদেশটি ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার জেলা গোয়েন্দা কমিটির (ডিআইসি) চিহ্নিত ‘আসন্ন হুমকি’র ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেন, বিশেষ করে সংবেদনশীল স্থাপনা, প্রধান সড়ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘিরে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ডিআইসি নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যেখানে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে কিছু গোষ্ঠী ও উপাদান বড় জমায়েত, প্রতিবাদ ও বিশৃঙ্খল সমাবেশের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে সক্রিয়ভাবে সংগঠিত হচ্ছে।’
এতে আরো বলা হয়, ‘ফোরামটি আরো জানিয়েছে, এসব উপাদান হালকা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানের কাছে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারে—যা জনশান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করবে।
’
রাওয়ালপিন্ডিতে তিন দিনের জন্য জনসমাবেশ এবং অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর আগে আজ পিটিআইয়ের পার্লামেন্টারি কমিটি জানায়, দলটির প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষাতের সুযোগ না পাওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার তারা ইসলামাবাদ হাই কোর্ট (আইএইচসি) ও আদিয়ালা জেলের সামনে বিক্ষোভ করবে।
৭২ বছর বয়সী ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি রয়েছেন। তিনি একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন, যেগুলোকে তিনি ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
কারাবন্দিত্বকালে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইমরানের সঙ্গে তার পরিবার, আইনজীবী এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির সাক্ষাৎ বারবার বাতিল করা হয়েছে।
সূত্র : ডন








































