‘বছরের পর বছর যায়, নতুন বছর আসে, কিন্তু আমাদের বাবারা আসে না। ৫ই আগস্টের পর এক বছরের বেশি হয়ে গেল, কিন্তু আমরা একজনকেও ফেরত পেলাম না।’
এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের জীবনের নির্মম বাস্তবতার বর্ণনা দেয় কিশোরী আদিবা ইসলাম হৃধি। তার বাবা পারভেজ হোসেন ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তখন হৃধির বয়স ছিল মাত্র আড়াই বছর। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বাবার কোন খোঁজ মেলেনি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলে হৃধি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সদস্যরা তাদের দীর্ঘদিনের বেদনা, ক্ষোভ ও অপেক্ষার কথা তুলে ধরেন।
হৃধি তার অপূর্ণ স্বপ্নের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘গুম—এই শব্দটা অনেক ছোট, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে হাজারো হাহাকার, কষ্ট, কান্না। আমার ছোট থেকে একটাই স্বপ্ন, আমি আমার বাবার সাথে স্কুলে যাব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।’
বাবার ফিরে আসার আকুতি জানিয়ে হৃধি প্রশ্ন তোলে, ‘আমার এই স্বপ্নটা কি আদৌ পূরণ হবে? আমার ভাই কি বাবার মুখটা দেখতে পারবে? এই স্বাধীন দেশে কি আমাদের বিচার হবে না? আমাদের বাবারা কোথায়? আমাদের বাবাদের কেন গুম করা হয়েছিল?’
গুম কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সে। হৃধি বলে, ‘গুম কমিশন বলে, ধরে নিন ওরা গুম, ওরা মৃত। কেন, এটা কি হাতের অঙ্ক যে আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা আর নেই? একটা দল করা কোন অপরাধ না। দল সবাই করে। এর জন্য এটা কেমন বিচার এই বাংলাদেশে?’
বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে সরাসরি বাবাকে খুঁজে দেওয়ার আহ্বান জানায় হৃধি। সে বলে, ‘বছরের পর বছর যায়, নতুন বছর আসে, কিন্তু আমাদের বাবারা আসে না। ৫ই আগস্টের পর এক বছরের বেশি হয়ে গেল, কিন্তু আমরা একজনকেও ফেরত পেলাম না।’
তারেক রহমানের উদ্দেশে হৃধি আরও বলে, ‘আমি তারেক রহমান চাচ্চুর কাছে আশা করি, আমাদের বাবাদের খুঁজে দেবেন। এই বাংলাদেশের মাটিতে এই গুমের বিচার করবেন।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









































