পেরুতে টানা বর্ষণে বন্যা ও ভূমিধস, আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ

ছবিসূত্র : রয়টার্স

পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের ইকা ও আরেকুইপা অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

প্রবল বর্ষণের মধ্যে ভূমিধসে ভেসে যাওয়া এক বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজারো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরেকুইপার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

প্রাদেশিক গভর্নর জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। এদিকে পেরুর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল সোমবার ঘোষণা করেছে, দেশজুড়ে ৭০০টিরও বেশি জেলাকে জরুরি অবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরেকুইপার কায়মা এলাকায় আকস্মিক বন্যায় সড়ক ভেঙে পড়েছে এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংসের মুখে রয়েছে। একটি গাড়ি কাদার নিচে অর্ধডুবন্ত অবস্থায় দেখা গেছে।উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাস্তা পরিষ্কার করছেন।

এই দুর্যোগের মধ্যেই গতকাল সোমবার বন্যা উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৫ জন নিহত হন। চালা জেলায় হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ১১ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজনই শিশু।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাতের পেছনে ‘এল নিনো কোস্তেরো’ নামের উপকূলীয় জলবায়ু পরিস্থিতি দায়ী। আগামী মাসে এটি আরো শক্তিশালী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বাড়াবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর তীব্রতা বাড়ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চরম আবহাওয়া, অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি  বাড়িয়ে তুলছে।

LEAVE A REPLY