বিশ্বকাপে খেলতে না পারার সুদীর্ঘ অপেক্ষা কি এবার ফুরাবে ইতালির? আজ্জুরিদের এই স্বপ্ন পূরণের মাঝে এখন প্রতিবন্ধকতা শুধু বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা। জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে আজ রাতে এই বাধা পেরোতে পারলেই বিশ্বকাপের দর্শক হয়ে থাকার প্রতীক্ষার অবসান হবে ইতালিয়ানদের। ফুটবল মহাযজ্ঞের গ্যালারিতে আবার উঠবে নীল সমুদ্রের ঢেউ। কিন্তু জেনিকায় হেরে গেলেই আরেকটা বিশ্বকাপ আজ্জুরিদের দেখতে হবে ঘরে বসে টিভিতে।
বসনিয়ার মাঠে জয়টাই তাই একমাত্র কাম্য ইতালির। কোচ জেনারো গাত্তুসোও তাই এভারেস্ট চূড়ায় আরোহণের মতোই চাপ অনুভব করছেন। নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জেতার পর ইতালির বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপের পথে মাত্র একটা ছোট্ট কদম বাড়িয়েছি আমরা। এখন আমাদের পাহাড় বা এভারেস্ট জয় করতে হবে।
’
বিশ্বমঞ্চে ঈর্ষণীয় গৌরবের রেকর্ড ইতালির। ব্রাজিল ছাড়া শুধু তাদেরই আছে টানা দুটি বিশ্বকাপ ঘরে তোলার অনন্য রেকর্ড। ১৯৫৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তারা অংশ নিয়েছে প্রতিবার। সেই ইতালিকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে সর্বশেষ ফুটবলের দুটি বৈশ্বিক আসর।
অগৌরবের এই রেকর্ডে হ্যাটট্রিক এড়ানোর সংকল্প বুকে লালন করে বসনিয়ায় যাচ্ছে ইতালি। যেভাবেই আসুক জেনিকায় জিতে আজ্জুরিদের বহু প্রতীক্ষার বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিতে চান গাত্তুসো। নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জেতার পর ইতালিয়ান কোচ শিষ্যদের সাফ জানিয়ে দেন, ‘আজকের প্রধান লক্ষ্য ছিল জয় (আয়ারল্যান্ড ম্যাচ), আজ আমরা কেমন খেললাম তা নিয়ে আমি মোটেও বিচলিত নই। বসনিয়ায় আমরা কিভাবে খেলব তা নিয়েও আমার মাথাব্যথা নেই, আমার শুধু জয় চাই।’
বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ফাইনাল পরীক্ষায় উতরে গেলে বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’তে খেলবে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা।
এই গ্রুপে ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার সঙ্গে আছে ইউরোপের সুইজারল্যান্ড এবং ২০২২ সালের আয়োজক কাতার। অতীত রেকর্ড ও ইতিহাস ঐতিহ্যে ফেভারিটের তকমা শরীরে লেপ্টেই মাঠে নামবে আজ্জুরিরা। তাই বলে খেলা মাঠে গড়ানোর আগে একদম বাতিলের খাতায় ফেলা যাচ্ছে না বসনিয়াকেও। কোচ সের্গেই বারবারেজ তো এক প্রকার হুংকারই দিয়ে রাখলেন যেন ইতালিয়ানদের, ‘ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচটা কঠিন ছিল। এখন সামনের দিকে তাকাচ্ছি আমরা। তৈরি আছি আমরা।’
ওয়েলসের বিপক্ষে করিম অ্যালাইবেগোতিক বসনিয়ার জয়সূচক গোলের পর ফেদেরিকো দিমার্কোসহ ইতালির কয়েকজন খেলোয়াড় উল্লাসে মেতে ওঠেন। ফাইনালে ওয়েলসকে এড়ানোর ইতালিয়ান উল্লাসে অপমানিত বোধ করা বসনিয়ানরা তেতে ওঠায় ম্যাচের আকর্ষণ ও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোমা ও জুভেন্টাসের সাবেক মিডফিল্ডার মিরালেন পিয়ানিচ গ্যাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বসনিয়া তাদের জন্য দুই হাত বাড়িয়ে অপেক্ষা করছে।’
ইতালির ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক দিনো জফ তাই ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, ‘এটা করা মোটেও ঠিক হয়নি। কারণ এটি প্রতিপক্ষকে আরো তাতিয়ে দেবে।’
তেতেই আছেন এডেন জেকোরা। ওয়েলসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বসনিয়ার জয়ে গোল করেছিলেন ইতালিতে দীর্ঘদিন খেলা ৪০ বছরের এই বর্ষীয়ান ফরোয়ার্ড। ইতালিকে সম্মান জানিয়েই বলছেন, ‘আমরা ঘরের মাঠে খেললেও ইতালিই ফেভারিট। বিশ্বকাপে যেতে পারাটা আমি ও নতুন প্রজন্মের তরুণদের জন্য হবে অনেক বড় অর্জন। আমাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। আশা করি, আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।’
ফাইনালের জন্য রেফারি ক্লেমেন্ট টারপিনকে নির্বাচন করাটাকেও ইতালির জন্য ভাবা হচ্ছে অশুভ! চার বছর আগে নর্থ মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে ইতালির বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার ম্যাচেও রেফারি ছিলেন এই ফরাসি!










































