সংগৃহীত ছবি
অনেক ধুমধাম করে উদ্বোধন করা হয়েছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউ-কানপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। কিন্তু মাত্র ১২ দিনের মাথায় দামি এই এক্সপ্রেসওয়েতে ফাটল দেখা দিয়েছে।কর্তৃপক্ষ প্রবল বর্ষণকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দায়ী করলেও বিরোধীরা এর জন্য নিম্নমানের কাজ, নির্মাণকাজে তদারকিতে গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে সোচ্চার হয়েছেন।
গত ১৩ জুলাই লখনউ-কানপুর গ্রিনফিল্ড ন্যাশনাল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কেন্দ্রীয় মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি উপস্থিত ছিলেন।
এক্সপ্রেসওয়েটি বানাতে মোট ৪ হাজার ২০০ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছিল।উদ্বোধনের ১২ দিনের মাথায় আসা কিছু ছবি সবাইকে চমকে দিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও কোথাও ধসে পড়েছে।
উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির নেতা মধুসূদন যাদব এক্সপ্রেসওয়ে থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানিয়েছেন, কোরারি গ্রামের কাছে রাস্তার প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিটারের একটি অংশ ধসে গেছে। ফাটলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে যাদব বলেন, ‘আমি লখনউ-কানপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং কোরারিতে পৌঁছানো মাত্রই দেখলাম বৃষ্টির পর রাস্তাটিতে কিভাবে ফাটল ধরেছে।’
এই ধরনের ফাটল বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে যাদব সরকারকে এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তবে খবর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেরামত শেষে এক্সপ্রেসওয়েটি চালু করা হয়েছে।
উদ্বোধনের মাত্র ১২ দিনের মাথায় লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ের এই দশার জন্য ভারি বর্ষণ এবং পিচের উপরিভাগের প্রযুক্তিগত ত্রুটিকেই দায়ী করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া-এর প্রকল্প পরিচালক নকুল প্রকাশ ভার্মা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল সড়কটি ধসে যায়নি। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পিচের একেবারে ওপরের আস্তরণ আলগা হয়ে প্রায় ৪০ মিটার রাস্তাজুড়ে পিছলে গেছে।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভেতরের মূল কাঠামো বা নিচের মাটি ধসে না পড়ায় একে স্ট্রাকচারাল ফেইলিউর বা স্থায়ী ধস বলা যাবে না।
কর্মকর্তারা দাবি করেন, পিচের তৈরি দীর্ঘ মহাসড়কগুলোতে কাজ শেষ হওয়ার পরপরই হুট করে ভারি বৃষ্টি হলে দু-এক জায়গায় এমন কারিগরি বা টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিতে পারে। তারা বলেন, উন্নাওয়ের কোরারি এলাকার ওই অংশের পাশের মাটির বাঁধটি ভারি বর্ষণের তোড়ে ধুয়ে যাওয়ায় রাস্তার উপরিভাগের পিচ ধরে রাখার শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।









































