ভারতের সীমান্ত এলাকায় জনমিতি পরিবর্তন খতিয়ে দেখার নির্দেশ অমিত শাহের

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তবর্তী এলাকায় জনমিতিক (জনসংখ্যার গঠনগত) পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব খতিয়ে দেখতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটিকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার (১৩ জুন) কমিটির এক বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি সীমান্ত জেলা, মহানগরী এবং শিল্পাঞ্চলগুলো পরিদর্শন করে এই পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ মূল্যায়নের নির্দেশ দেন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য ‘অস্বাভাবিক’ কারণে জনসংখ্যার কাঠামোগত যে পরিবর্তন ঘটছে, তা খতিয়ে দেখাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পি পি নাওলকারের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক প্রধান সচিব দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাবেক প্রধান বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ফরেনার্স-১) কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

কমিটিটি গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার মতো একটি জটিল বিষয় পর্যালোচনার জন্য গঠিত এই কমিটিতে কোনো জনমিতি বিশেষজ্ঞ বা ডেমোগ্রাফার নেই। খোদ কমিটির প্রধান বিচারপতি নাওলকারও গত মে মাসে স্বীকার করেছিলেন, এই পদের জন্য তার নির্বাচিত হওয়া ছিল একটি বড় চমক এবং জনমিতি বা অবৈধ অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো তার কাছে একেবারেই ‘নতুন’।

বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারি প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও কেন সমান্তরালভাবে এমন একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি নেতারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ’-এর জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দায়ী করে যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন, এই কমিটি সেই রাজনৈতিক এজেন্ডারই অংশ কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নির্দেশনার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সীমান্তবর্তী এলাকায় এক উদ্বেগজনক ও অমানবিক পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের জেরে বাংলাভাষী মুসলমানদের কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের তোয়াক্কা না করেই জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া (পুশ-ব্যাক) হচ্ছে। এই ঘটনা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও মানবিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।

সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের সংখ্যার গঠন, বয়স বা বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনকে জনমিতিক পরিবর্তন বলা হয়। তবে ভারতের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাজ কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বিশেষ করে কমিটির প্রতিবেদনের গুণগত মান এবং এর ভিত্তিতে গৃহীত পরবর্তী সরকারি নীতি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

LEAVE A REPLY