ছবি : রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুইটি তেল ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরো আটজন আহত হয়েছেন।ওমান জলসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া জাহাজগুলোর নাম ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’। সোমবার (১৩ জুলাই) আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজ দুইটি ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। নিহত ভারতীয় নাগরিক ‘মোম্বাসা’ জাহাজের ক্রু ছিলেন।আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুইজন ইউক্রেনীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর দুটি ট্যাংকারেই আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে নাবিকদের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো গেছে।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।একই সঙ্গে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার দেশটির রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত যেকোনো হুমকি মোকাবেলা করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের কালহাত থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে অপর একটি অজ্ঞাত ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে কোনো দূরপাল্লার বস্তু। এই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিনরুম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুরা নিরাপদ রয়েছেন। তবে এই ঘটনাটি আমিরাতের ওপর হওয়া হামলারই অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করার পরই এই হামলাগুলো চালানো হলো। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেয় এবং মার্কিন বাহিনী টানা তিন রাত ধরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা তেহরান মেনে নেবে না।










































