সংগৃহীত ছবি
সিডনির একটি আদালতে বহুল আলোচিত এক মামলার প্রথম দিনের শুনানিতে বলা হয়েছে, জ্যেষ্ঠ সম্প্রচারক অ্যালান জোন্স গাড়ি চালানোর সময় দুই পুরুষের যৌনাঙ্গ স্পর্শ করেছিলেন এবং সম্মতি ছাড়াই আরো কয়েকজনকে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
প্রভাবশালী এই সংবাদ ব্যক্তিত্ব এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় রাগবি দলের সাবেক কোচ ছয়জন পুরুষের ওপর যৌন নিপীড়নের ২০টি এবং আপত্তিজনক স্পর্শের ২টিসহ মোট ২২টি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।৮৫ বছর বয়সী জোন্স সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগ অনুসারে ঘটনাগুলো ২০০৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে জনসমক্ষে বা জোন্সের বাড়ি অথবা কর্মস্থলে ঘটেছিল। গত সোমবার তার আইনজীবীরা ভুক্তভোগীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এই মামলাটি ‘দ্বন্দ্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, দুমুখো নীতি, অর্থ, ঘৃণা, হতাশা ও সুযোগসন্ধানের’ কারণে করা হয়েছে।
প্রসিকিউটররা শুরুতেই অভিযোগকারীদের বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। অভিযোগকারী ‘জে’ নামের এক ব্যক্তি যখন প্রথম জোন্সের সঙ্গে দেখা করেন, তখন তিনি ছিলেন একজন কিশোর। ক্রীড়াক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সাফল্যের বিষয়ে একটি সরাসরি রেডিও সাক্ষাৎকারের সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের দাবি, জোন্স পরে সেই কিশোরকে একটি মোবাইল ফোন ও একটি গাড়ি উপহার দেন।এ ছাড়া তিনি তাকে প্রতি সপ্তাহে ৪০০ অস্ট্রেলীয় ডলার দিতেন। পরে সেই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে ৬০০ ডলার করা হয়।
একবারের ঘটনায় বলা হয়, দুজন যখন সিডনির দক্ষিণ দিকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ফিটজরয় ফলসে জোন্সের বাড়িতে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন জোন্স অনুমতি ছাড়াই তার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করেন এবং পরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগকারী জানান, জোন্স অন্য আরেকবারও অনুমতি ছাড়া তাকে চুমু খেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা কাউকে বলেননি।কারণ তার ভয় ছিল, ‘যদি আমি কাউকে বলি, তবে আমি সব কিছু হারাব।’
গাড়ি ও সাপ্তাহিক টাকার কথা তুলে ধরে অভিযোগকারী ‘জে’ বলেন, ‘আমি যা চাইতাম তা-ই হাতে পেয়ে যেতাম। জীবনটা দারুণ কাটছিল।’ তিনি লজ্জাবোধও করতেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে আমার বন্ধু ও পরিবারকে বলতে হতো… কিন্তু পুরুষদের প্রতি আমার কোনো আকর্ষণ ছিল না। তাই আমি চাইনি কেউ তা জানুক।’ মোট নয়টি অভিযোগ অভিযোগকারী ‘জে’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘটনা শুরু হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর।
জনাকীর্ণ আদালতে আরো বলা হয়, ‘সি’ নামের আরেক ভুক্তভোগী জোন্সের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি আদালতে জবানবন্দি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানাবেন, রেডিও হোস্ট জোন্সকে কাজ শেষে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকবার জোন্স তার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করেছিলেন। প্রসিকিউটররা বলেন, রেডিও স্টুডিওর লিফটেও জোন্স প্রায়ই অনুমতি ছাড়াই তাকে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করতেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, জোন্স অভিযোগকারী ‘সি’-কে আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন। সেই ভুক্তভোগীর মনে হয়েছিল, তাকে সাড়া দিতে হবে, তা না হলে তার ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আরেক ভুক্তভোগী ছিলেন ১৭ বছরের এক হাই স্কুল শিক্ষার্থী। তাকে ফিটজরয় ফলসে জোন্সের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে এই রেডিও তারকা তাকে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। জোন্সের আইনজীবীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, রেডিও তারকা জোন্সকে ‘সংবাদমাধ্যমের বিচারে’ দোষী করা হয়েছে। তার প্রতিপক্ষরা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করতে উৎসাহ দিয়েছে। আইনজীবীরা বলেন, কিছু ভুক্তভোগী এই অভিযোগগুলো ‘বানিয়ে’ বলেছেন। আদালতে এই দাবিগুলো শতভাগ প্রমাণ করতে হবে। বিচারকভিত্তিক এই বিচারে ৭০ জনেরও বেশি সাক্ষীর বক্তব্য শোনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ প্রথম এই যৌন নিপীড়নের খবর প্রকাশ করে। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অবশেষে ২০২৪ সালের নভেম্বরে জোন্সকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। বহু দশক ধরে জোন্স টুজিবি চ্যানেলে তার টক শো দিয়ে সিডনির রেডিও মাধ্যমে রাজত্ব করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে তিনি ২০২০ সালে অবসর নেন। প্রচারমাধ্যমে আসার আগে জোন্স শিক্ষকতা করতেন। এ ছাড়া আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি চার বছর অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় রাগবি দল ওয়্যালাবিসের প্রধান কোচ ছিলেন।










































