থানা থেকে লুট হয় ৩৯ অস্ত্র, ২২টির সন্ধান মেলেনি দুই বছরেও

বগুড়া সদর থানা থেকে লুট করা হয় ৩৯টি অস্ত্র। এর মধ্যে ২২টি আগ্নেয়াস্ত্রের সন্ধান গত দুই বছরেও মেলেনি। সরকার থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও কেউ এসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি বা কেউ জমাও দেয়নি।

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিনে দুর্বৃত্তরা সদর থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে বিভিন্ন ধরনের ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করে। এ সময় কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ নিয়ে যায়। আলামতের অসংখ্য মোটরসাইকেলও লুট হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করলেও এর অনেকগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এদিন বিকালে দুর্বৃত্তরা শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে সদর থানায় হানা দেয়। হানা দেওয়া হয় সদর ভূমি অফিস, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায়। সেনাবাহিনীর প্রহরায় পুলিশ সদস্যরা প্রাণ নিয়ে সদর থানা থেকে চলে যান। এরপর দুর্বৃত্তরা সদর থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পর অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে ফেলে। তারা সেখান থেকে প্রকাশ্যে বিভিন্ন ধরনের ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি এবং কার্তুজ লুট করে। এর মধ্যে ৩৬টি আগ্নেয়াস্ত্র সদর থানা পুলিশের এবং তিনটি পুলিশ লাইনস সদস্যদের।

লুট হওয়া ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ছিল পাঁচটি পিস্তল, ১২টি রাইফেল, পাঁচটি এসএমজি ও এলএমজি এবং ১৭টি শটগান। ওই সময় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে থানা চত্বরে থাকা পুলিশের ৪-৫টি যানবাহন ভস্মীভূত হয়। এছাড়া থানা চত্বরে থাকা মামলার আলামত দুই শতাধিক মোটরসাইকেল লুট করা হয়। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। এখনও ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক গুলি দুর্বৃত্তদের হাতে রয়েছে।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সাধারণ জনগণ জানান, সদর থানা থেকে লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি অপরাধীদের হাতে চলে গেছে। এসব অস্ত্র অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দাবি করেন, বগুড়া মহানগরীর চেলোপাড়া এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলের নেতা সদর থানা লুটের দায়িত্বে ছিলেন। তদন্ত করে ওই নেতাকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পারলেই লুট করা আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মোটরসাইকেলগুলোর সন্ধান মিলত।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন বলেন, সদর থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি। এতে জনগণ নানা শঙ্কায় রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের মতই খারাপ রয়েছে। তাই এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও পুলিশকে অবশ্যই নিশ্চয়তা দিতে হবে তারা যেকোনো মূল্যে লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করবেন। অন্যথায় এসব অস্ত্র দিয়ে অপরাধীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন সময় ১৭টি উদ্ধার হয়েছে। অবশিষ্ট ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আশা করেন, এসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হবে।

তিনি এ থানায় নতুন যোগদান করায় সেদিন কী পরিমাণ গুলি ও কার্তুজ লুট হয়েছিল সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

LEAVE A REPLY