পটুয়াখালীতে ইজি বাইককে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

পটুয়াখালীতে ইজি বাইককে ধাক্কা দিয়ে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস এবং ইজিবাইকটি খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন।আহত হয়েছেন বাসে থাকা ১০ যাত্রী। দুর্ঘটনার পর থেকে বাসের ভেতরে কিংবা পানিতে আরো কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা জানতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজার সংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘ইমরান ট্রাভেলস’-এর একটি বাস ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইককে ধাক্কা দেয়।এসময় দুটি বাহনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। তখন ইজি বাইকটি বাসের নিচে চাপা পড়ে।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করেন।এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত তিনজনই ইজিবাইকের যাত্রী।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটি খাদে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়। বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বাসের যাত্রীদের মধ্যে নিহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ও সুপারভাইজার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। 

বাসের যাত্রী এমদাদুল বলেন, ‘আমাদের বাসটা শুরু থেকেই খুব রাফ চালাচ্ছিল। এতে দুর্ঘটনা ঘটে। আল্লাহ তাআলা আমাগো জানে বাঁচাইছে।’

আরেক যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঢাহায় তাবলিগ জামাতে যাইতেছিলাম। লগে পরিবারের লোকজনও আছিল, ঢাহায় একটু বেড়াইতাম। হঠাৎ কইরা বাসডা খাদের মধ্যে পইড়া যায়। আমরা ভেতরে বইসা ভাবতেছিলাম, এই বুঝি জীবনের শেষ। আমার নাতিডারে কোলে নিয়া অনেক দূরে ছিটকা পড়ছি। ওর মা তো ভাবছে নাতি আর নাই। পরে আমি চিল্লাইয়া কইছি, আমি আর নাতি বাঁচছি। আল্লাহ আমাগো হেফাজত করছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল বলেন, ‘হঠাৎ বিকট একটা শব্দ শুনছি। মনে হইছে কী একটা মহা প্রলয় হইছে। দৌড়ে এসে দেখি একটা ঢাকাগামী বাস একটি অটো রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে দুইটিই খাদে পড়ে গেছে। এরপর আমরা উদ্ধার কাজ শুরু করে তিনজনের লাশ উদ্ধার করছি।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, ‘আমরা আইসা দেহি পানির মধ্যে মহিলাগো চুল ভাসতেছে। পরে মানুষজন পানিতে নাইমা লাশ বাইর করছি।

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে। বাসের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না এবং পানির মধ্যে আরো কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না আর কেউ হতাহত হয়েছেন কি না।’

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে দুর্ঘটনার পর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা।

নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY