জুবিন গার্গকে হারানোর এক বছর

সংগৃহীত ছবি

কিংবদন্তি ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। ২০২৫ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরে আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল আসাম।

শোকের ছায়া নেমে এসেছিল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে। এক বছর পরও তার গান, স্মৃতি ও সৃষ্টির মধ্যেই প্রিয় শিল্পীকে খুঁজে ফিরছেন অগণিত ভক্ত। তবে মৃত্যুর এক বছর পরও তাকে ঘিরে চলমান হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়নি।

জুবিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের সাগরে ভেসে যায় আসাম।

রাজ্যজুড়ে তৈরি হয় অভূতপূর্ব শোকের আবহ। প্রিয় শিল্পীর শেষযাত্রায় অংশ নিতে রাস্তায় নেমে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির কাছে সোনাপুরের কামারকুচিতে অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে আনুমানিক ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিশাল এই জনসমাগম শুধু ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে জুবিনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। সিঙ্গাপুরের তদন্তে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আসামে তদন্তের গতিপথ ভিন্ন দিকে এগোয়।

জানা যায়, একটি ব্যক্তিগত ইয়টে করে লাজারাস আইল্যান্ডের কাছে গিয়েছিলেন জুবিন। পরদিন তার নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভালে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসামে ৬০টির বেশি এফআইআর দায়ের হয়।এরপর ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে রাজ্য সরকার।

তদন্তের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটনাটি হত্যা মামলার দিকে মোড় নেয়। ২০২৫ সালের ১ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আসাম পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সিঙ্গাপুরের অনুষ্ঠানটির আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, সংগীতশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্ত ও শেখর জ্যোতি গোস্বামী, জুবিনের চাচাতো ভাই সন্দীপন গার্গ এবং তাঁর দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে এসআইটি প্রায় আড়াই হাজার পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করে। মামলার নথিপত্রের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠা।

২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের লাজারাস আইল্যান্ডের কাছে সাঁতার কাটতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পানিতে অচেতন হয়ে পড়েন জুবিন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিপিআর দেওয়া হয়। পরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

সংগীতজীবনে জুবিন গার্গ রেখে গেছেন অসংখ্য স্মরণীয় গান। ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ‘ইয়া আলি’ তাকে ভারতজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। তার কণ্ঠে ‘কৃষ ৩’ সিনেমার ‘দিল তু বাতা’সহ আরো বহু গান শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেক গানই পরিণত হয়েছিল চার্টবাস্টারে, ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতের নানা প্রান্তে।

শুধু হিন্দি গানেই সীমাবদ্ধ ছিল না জুবিনের সংগীতযাত্রা। বাংলা সিনেমাতেও তার কণ্ঠে বেশ কিছু গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রে। বাংলাদেশের সিনেমাতেও ছিল তার উপস্থিতি। ঢালিউডের ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ সিনেমার ‘ঢাকার পোলা’ গানটিতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন এই শিল্পী।

LEAVE A REPLY