ছবি : রয়টার্স
গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে সৈন্য পাঠানোর জন্য উগান্ডার সরকার সংসদের অনুমোদন চেয়েছিল। বৃহস্পতিবার সংসদ সেই অনুমোদন দিয়েছে।
প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানানো হলো যে উগান্ডা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স ফর গাজাতে যোগ দিতে আগ্রহী। এর আগে মরক্কোও এই বাহিনীতে সৈন্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে উগান্ডা কেন এই মিশনে অংশ নিচ্ছে বা এর বিনিময়ে কোনো চুক্তি হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে দেশটির বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন।সংসদ সদস্য হাসান কিরুমিরা বলেন, ওআইসি সদস্য একটি দেশের জন্য এমন সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী গাজায় কোন পক্ষের হয়ে কাজ করবে?’
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জ্যাকব কিরিওওয়া কিওয়ানুকা সংসদে বলেন, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় উগান্ডার সেনাবাহিনী এ ধরনের দায়িত্ব পালনে সক্ষম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রস্তাবিত এই ২০ হাজার সদস্যের আন্তর্জাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স। তার মতে, এই বাহিনী গাজায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের একটি চুক্তির ঘোষণা দেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহার শেষ হলে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গাজায় মোতায়েন করা হবে।
এই চুক্তি গত বছরের বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ। এতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং হামাস ও তার মিত্রদের সব ধরনের সশস্ত্র কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে।তবে চুক্তির খসড়া প্রকাশের পর ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের এ নিয়ে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে এবং তারা সেই উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও জানিয়েছে।
অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ২৫০ জন নিহত হয়েছে। দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের বড় ধরনের সংঘর্ষ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে বন্ধ হয়।











































