তুকারাম মুন্ধে খেতে আসলেই বিপদ!

ছবি : এনডিটিভি।

এমনিতে কেউ খেতে এলে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা খুশিই হবেন। কিন্তু ভারতের মহারাষ্ট্রের কোনো রেস্টুরেন্ট মালিকই মুখে যাই বলুন, মন থেকে তুকারাম মুন্ধেকে অতিথি হিসেবে স্বাগত জানাবেন না।

মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের কমিশনার তুকারাম মুন্ধে যেন খাবার ব্যবসায়ীদের জন্য আতঙ্কের নাম। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুন্ধে এবং তার বাহিনীর বিরামহীন অভিযানে তটস্থ থাকেন মহারাষ্ট্রের রেস্টুরেন্ট মালিকরা। তুকারাম মুন্ধেও কোথাও গেলে সারাক্ষণ দোষ খুঁজে বেরান।

এমনিতে তুকারাম খাদ্যরসিক নন।বাইরে খেতে যাওয়াও তার অত পছন্দ নয়। তবুও এক বন্ধুর আমন্ত্রণে একবার রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলেন। আমন্ত্রণ পাওয়ার পরই মুন্ধে মজা করে বলেছিলেন যে, পুরো সন্ধ্যাটি কেবল আরাম করে খাওয়ার চেয়ে নিয়ম লঙ্ঘন খুঁজে বের করতেই কেটে যাবে। 

এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মুন্ধে বলেন, ‘আমি যেখানেই যাই না কেন, চারপাশে একটু নজর বুলিয়ে নেওয়ার একটি অভ্যাস আমার আছে।’ রেস্তোরাঁয় গিয়ে মুন্ধে লক্ষ্য করেন যে, তাদের বাধ্যতামূলক ফুড লাইসেন্সটি সবার চোখে পড়ার মতো জায়গায় টানানো নেই। পাশাপাশি রেস্তোরাঁটির খাবার পানির ব্যবস্থা নিয়েও কিছু প্রশ্ন দেখা দেয় তার মনে।

এরপর তার বন্ধু একটি পনিরের পদের অর্ডার দেন। মুন্ধে তার বন্ধুকে বলেন, ‘পনির অর্ডার কোরো না। এটি নিশ্চিতভাবেই আমার চোখের পরীক্ষায় পাস করবে না।’ পনির যখন টেবিলে এলো, মুন্ধে সেটি আরো কাছ থেকে পরীক্ষা করলেন এবং রেস্তোরাঁটি আসল পনির পরিবেশন করছে নাকি কোনো কৃত্রিম বা বিকল্প পনির দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

তিনি বলেন, ‘আমি আবারও জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি সত্যিই আসল পনির? এটি আসার সাথে সাথেই আমি পরীক্ষা করে দেখলাম। এটি কোনোভাবেই আসল পনির ছিল না।’

মুন্ধে তার বন্ধুকে সেটি খেতে নিষেধ করেন। এরপর তিনি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়গুলোসহ বেশ কিছু ত্রুটি তুলে ধরেন। তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। তার বদলে রেস্টুরেন্টটিকে তাদের ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। 

আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তুকারাম জানান, একবার তার ছেলে বন্ধুদের নিয়ে নিজের জন্মদিন উযাপনের জন্য অনলাইনে একটি রেস্টুরেন্টে টেবিল বুক করে। কিন্তু অনলাইন বুকিংএ ‘মুন্ধে’ পদবী দেখেই ভয়ে রেস্টুরেন্টের কর্মীদের আত্মা খাঁচাছাড়া। তারা ভেবেছিলেন, তুকারাম মুন্ধেই হয়তো খেতে আসছেন। 

তিনি বলেন, এই আশঙ্কার কথা তার এক বন্ধুর কান পর্যন্ত পৌঁছায় এবং সেই বন্ধুটি মুন্ধেকে ফোন করে জানতে চান যে তিনি কোনো রেস্টুরেন্ট বুক করেছেন কি না। জবাবে তুকারাম জানান, ‘আমি কোনো বুকিং করিনি। আমার ধারণা এটি আমার ছেলে করেছে। বন্ধুদের জন্য সে হয়তো বুকিং করে থাকতে পারে।‘ তবে রেস্টুরেন্ট কর্মীদের এই সতর্কতায় তুকারাম অখুশি নন।

LEAVE A REPLY