জয়সওয়াল ও ডিকভেলার সেই কথপোকথনের মুহূর্ত। ছবি: এক্স
ক্রিকেটে স্লেজিং নতুন কিছু নয়। তবে স্লেজিংয়ের সঙ্গে যদি জুড়ে যায় আইপিএলের টোপ, তাহলে ব্যাপারটা একটু বেশি মজার হয়ে ওঠে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজ গল টেস্টের শেষ দিনে সেটাই দেখালেন ভারতের যশস্বী জয়সওয়াল। তার ‘মাইন্ড গেম’-এর শিকার হলেন নিরোশান ডিকভেলা।
রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কার ১৪২ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামেন ডিকভেলা। তাকে ঘিরে তখন শুরু হয় জয়সওয়ালের স্লেজিং।স্কয়ার লেগ থেকে জয়সওয়াল ডিকভেলাকে আক্রমণাত্মক শট খেলতে প্রলুব্ধ করতে থাকেন।
দুজনের কথপোকথন ছিল এমন—
জয়সওয়াল: প্রথম ইনিংসে তো অনেক শট খেলেছ। (দ্বিতীয় ইনিংসেও) আমাদের এরকম কিছু দেখতে হবে। চলো, করে দেখাও।
ডিকভেলা: তাই?
জয়সওয়াল: হ্যাঁ, আমি দেখতে চাই। চলো, দেখাও। ওখানে মারো (ডিপ স্কয়ার লেগের দিকে ইশারা করে), চলো। কেন নয়?
ডিকভেলা: কোনো দরকার নেই। আমাকে আইপিএলে নিয়ে যাও, তারপর আমি মারব।
জয়সওয়াল: নিয়ে যাব, নিয়ে যাব। ১০০ শতাংশ। একটা ছক্কা মারো, আমি তোমাকে আইপিএলে নিয়ে যাব।
ডিকভেলা: ধন্যবাদ।
কথোপকথন এখানেই শেষ। কিন্তু আসল মজা শুরু হলো পরের বলেই।
প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল করেন। ডিকভেলা জায়গা করে নিয়ে কাট করতে যান। কিন্তু শটটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ব্যাটের কিনারায় লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপার ঋষভ পন্তের হাতে। ১০ রান করে আউট ডিকভেলা। অর্থাৎ, আইপিএলের টোপ গিলে ছক্কা মারার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি পরের বলেই ধরা!
ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে মুহূর্তটি হয়ে উঠেছে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ও মজার ঘটনা। জয়সওয়ালের ‘মাইন্ড গেম’ যে কাজ করেছে, ডিকভেলার আউট হয়ে যাওয়াই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এই ঘটনা নিয়ে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘জয়সওয়াল ও ডিকভেলার মধ্যকার মজার কথোপকথন বেশ মজার ছিল। কারণ এতে একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। ডিকভেলা একটু চঞ্চল ও কথাবার্তায় বেশ সরব। আমার মনে হয়, এ কারণেই হয়তো তিনি জয়সওয়ালের প্রলোভনে সাড়া দিয়েছিলেন।’
ধৈর্যহারা হওয়ার কারণেই শ্রীলঙ্কা শেষ দিনে এখন পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়েছে বলে মত হার্শার, ‘শ্রীলঙ্কা যখন ধৈর্য ধরে রক্ষণাত্মকভাবে ব্যাটিং করেছে, তখন তাদের তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। যে দুটি উইকেট পড়েছে, দুটিই মূলত মেজাজ ও ধৈর্য ধরে রাখতে না পারার কারণে।’
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৯৫। স্বাগতিকদের জিততে দরকার আরো ১৭৭ রান, সফরকারী ভারতের চাই ৪ উইকেট।
সোনাল দিনুশা ৮০ ও কেশারা নুয়ান্থা ১৩ রান নিয়ে ব্যাটিং করছিলেন। ম্যাচের এখনো প্রায় ৬০ ওভার বাকি।











































