‘শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করাও বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় প্রমাণ’

ছবি : হামজা চৌধুরীর ফেসবুক থেকে

ফুটবলে প্রতিটি যাত্রার সফলতা ফলাফলের সমীকরণ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই।জাতীয় দলের জার্সিতে কাটানো প্রথম দেড় বছর কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা একটি নতুন দলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার দারুণ এক অভিজ্ঞতা ছিল।

এমনকি সফলতার চেয়ে কঠিন মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে বেশি।তবে সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে দল ভবিষ্যতে বড় কিছুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী।

ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামজা চৌধুরী বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার জন্য একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল, আলহামদুলিল্লাহ। অবশ্যই এই যাত্রায় অনেক ভালো-মন্দ সময় এসেছে। দুর্ভাগ্যবশত, ভালো মুহূর্তের চেয়ে আমাদের হয়তো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি বেশি হতে হয়েছে।তবে আমরা হাল ছাড়ছি না; একটি সুন্দর ও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আমরা সবাই একসাথে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’

শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার মনে করেন, ফলাফল দিয়ে সবসময় দলের উন্নতি বিচার করা যায় না; বরং শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করতে পারাটাই বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় প্রমাণ।

অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ফুটবল দল প্রতিনিয়ত নিজেদের উন্নত করছে বলে মনে করেন হামজা চৌধুরী। আসিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলক অনভিজ্ঞ হলেও, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তা যাচাই করার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ধীরগতির শুরুর কারণে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফিরে আসা কঠিন হয়েছিল।তবে আমার মনে হয়েছে, আমরা আগের ম্যাচের সিঙ্গাপুরের সাথে আরো ভালো খেলেছি।’

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ধাপ এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে সেই ব্যবধান সবসময় স্পষ্ট ছিল না বলে মনে করেন হামজা চৌধুরী। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এই পর্যায়ে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাটা দারুণ। র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা আমাদের ওপরে। কিন্তু মাঠের কিছু কিছু মুহূর্ত দেখলে সেই ব্যবধানটা আসলে বোঝা যায় না। তাই নিশ্চয়ই আমরা কিছু একটা ঠিকভাবেই করছি।’

শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা এখন পাজলের শেষ দুই-তিনটি টুকরো খুঁজছি। আশা করি, সেগুলো নিখুঁতভাবে একসঙ্গে বসাতে পারব।’

বাংলাদেশের উন্নতির জন্য এখনো কয়েকটি জায়গায় কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন হামজা। আর সেই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে নভেম্বরের ঘরের মাঠের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিতে চান তিনি।

হামজা বলেন, ‘নভেম্বরে ঘরের মাঠে আমাদের বড় একটি টুর্নামেন্ট আছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেটিকে সামনে রেখে তৈরি হচ্ছি এবং আশা করি সেখানে কিছু সাফল্য অর্জন করতে পারব।’

বাংলাদেশের সঙ্গে পথচলায় মাঠের বাইরেও নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে হামজার। ইন্দোনেশিয়ায় এবারই প্রথম গেছেন তিনি। বন্ধু ও পরিবারের কয়েকজন আগে দেশটিতে গিয়ে ভালো অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। এবার নিজেও ইন্দোনেশিয়ার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন তিনি।

হামজা বলেন, ‘আমার খুব ভালো লেগেছে। সত্যিই ভালো! ইন্দোনেশিয়ায় এটাই আমার প্রথমবার। আমার অনেক বন্ধু ও পরিবারের কয়েকজন আগে এখানে এসেছে। তারা শুধু ভালো কথাই বলেছে। তাই নিজে এসে দেখাটাও দারুণ ছিল।’

তবে গরম আবহাওয়াটা কিছুটা কঠিন মনে হয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘মানুষগুলো খুব বন্ধুবৎসল। আবহাওয়াটা আমার জন্য একটু বেশি গরম। তবে সব মিলিয়ে খুব উপভোগ করেছি। আশা করি, আবারও আসতে পারব এবং ইন্দোনেশিয়ার অন্য জায়গাগুলোও ঘুরে দেখতে পারব।’

বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে গ্যালারিতে বড় সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটিও দলের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে বলে মনে করেন হামজা।

আমি সত্যিই ম্যাচটির অপেক্ষায় আছি। জানি, গ্যালারিতে আরও বেশি দর্শক থাকবে। তাই দল হিসেবে এটি আমাদের জন্য আরেকটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা হবে বলেন যোগ করেন তিনি।

ইন্দোনেশিয়া দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি কঠিন পরীক্ষাই হবে বলে মনে করেন হামজা। তবে এ ধরনের দলের বিপক্ষেই নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করতে চান এই তারকা মিডফিল্ডার।

হামজার ভাষায়, ‘ইন্দোনেশিয়া খুব ভালো দল। তাদের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলে। তাই আমাদের জন্য এটিও কঠিন পরীক্ষা হবে। তবে আমরা এখানে এসেছিই এই কারণে, এই মুহূর্তে আমাদের চেয়ে ওপরে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে।’

LEAVE A REPLY