ফিলিপাইনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ২০২৬’ নির্বাচিত হয়েছেন মিসবাহ আরশাদ। এর মাধ্যমে চতুর্থ পাকিস্তানি নারী হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন।
মনোনয়ন পর্বের চূড়ান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে দুর্দান্ত উত্তর দিয়ে বিচারকদের মন জয় করে নেন মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মিসবাহ। অনুষ্ঠানে মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক জশ ইউগেন মিসবাহকে অফিশিয়াল স্যাশ পরিয়ে দেন। পরে তার পূর্বসূরি রোমা রিয়াজ মিসবাহর মাথায় বিজয়ীর মুকুট পরিয়ে দেন।
মিসবাহ আরশাদ কে?
মিসবাহ আরশাদ মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। আরশাদ এর আগে বেশ কয়েকটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায়ও তিনি অংশ নেন। মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি মিসবাহ মডেলিংও করেন।তিনি ফ্যাশন ও সৌন্দর্যবিষয়ক বিভিন্ন কনটেন্টও তৈরি করেন।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিগুলো থেকে দেখা যায়, তিনি ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। নতুন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা, স্থানীয় খাবার খাওয়া এবং প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানোও তার পছন্দের। মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ২০২৬-এর মুকুট জয়ের পর মিসবাহ আরশাদ ইনস্টাগ্রামে জানান, মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
তিনি মনে করেন, শিক্ষার মাধ্যমে মেয়েদের ক্ষমতায়ন করা সম্ভব।২০২৬ সালের জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাকে পাকিস্তানের লাহোরের একটি স্কুল পরিদর্শন করতে দেখা যায়।
সেখানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মিসবাহ বলেন, বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন, তাদের সঙ্গে দেখা করা এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়া, পাশাপাশি পাকিস্তান নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার পর তিনি একটি বিষয় উপলব্ধি করেছেন যে, মেয়েদের শিক্ষায় বিনিয়োগ ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী বিনিয়োগগুলোর একটি।
মিসবাহ আরশাদ লিখেছেন, ‘বছরের পর বছর আমি একটি বিষয় শিখেছি, ব্যর্থতা কখনোই ঠিক করে দেয় না আপনি বিজয়ী কি না। আসল বিষয় হলো আশা ধরে রাখা, চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং প্রতিটি ধাপে নিজেকে আরো ভালো করে তোলা।’
তিনি জানান, অনুষ্ঠানে পরা সাদা গাউনটি আশার প্রতীক। এটি তাকে নিজের স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস কখনো না হারানোর কথা মনে করিয়ে দেয়। মিসবাহ আরো বলেন, গাউনে থাকা রয়্যাল ব্লু রঙের ক্রিস্টালগুলো শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রতীক। শেখা এবং নিজেকে উন্নত করার মাধ্যমে মানুষ যে জ্ঞান অর্জন করে, এগুলো তা প্রকাশ করে।
নিজের যাত্রা সম্পর্কে মিসবাহ লিখেছেন, ‘কখনো কখনো জয় পাওয়ার পরই বোঝা যায়, আসলে পুরো যাত্রাটিই ছিল সবচেয়ে বড় পুরস্কার। এই পথে নানা আবেগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, নিয়মিত পরিশ্রম করতে হয়, অনেক কিছু শিখতে হয় এবং অনেক সুন্দর মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। এসব অভিজ্ঞতাই মানুষকে নিজের মানবিক অনুভূতির আরো কাছাকাছি নিয়ে যায়।’
৭৫তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬ পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ানে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেবেন। এ জন্য বিভিন্ন দেশের স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছে।
ইনস্টাগ্রামে মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ২০২৬-এর নতুন বিজয়ী মিসবাহ আরশাদ। সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস, মার্জিত আচরণ ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তিনি এখন বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন।’
সংস্থাটি আরো জানায়, আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউনিভার্স ২০২৬ প্রতিযোগিতায় মিসবাহ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন।










































