সোনিয়ার স্মৃতিকথা নিয়ে হঠাৎ বিতর্ক, আসল ঘটনা জানাল পেঙ্গুইন

সংগৃহীত ছবি

কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: এ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাব দিয়েছে পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা বইটি প্রকাশ করতে কখনোই অনাগ্রহী ছিল না।বরং বইটি প্রকাশের বিষয়ে তারা ‘আগ্রহী ও প্রস্তুত’ ছিল।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া জানায়, ভারতে ‘বিলংগিং’ বইটির প্রকাশক তারা নয়। তাই সম্পাদকীয় পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বইটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়।

প্রকাশনা সংস্থাটির মুখপাত্র বলেন, একজন প্রকাশক হিসেবে বইয়ের তথ্য যাচাই করা এবং লেখককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া তাদের দায়িত্বের অংশ। বইয়ের স্বার্থে সম্পাদকীয় পরামর্শ দেওয়া প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক বিষয়।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট আলোচনার পুরো সময়জুড়েই পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া বইটি প্রকাশ করতে আগ্রহী ছিল।

তবে লেখকের সঙ্গে হওয়া ব্যক্তিগত ও গোপন আলোচনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আর কোনো মন্তব্য করবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বইটির একটি অংশে কিছু পরিবর্তন ও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া। সোনিয়া গান্ধী সেই পরিবর্তনে রাজি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বইটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরে সেই দাবির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া।

সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথাটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশের কথা রয়েছে আগামী ১০ নভেম্বর। বইটি প্রকাশ করবে পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউসের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আলফ্রেড এ নফ।এরই মধ্যে বইটির প্রথম সংস্করণে এক লাখ কপি ছাপার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

‘বিলংগিং: এ জার্নি অব লাভ’ বইটিতে সোনিয়া গান্ধীর শৈশব, যুদ্ধ-পরবর্তী ইতালিতে বেড়ে ওঠা, ভারতে আসা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বিয়ের গল্প উঠে আসবে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া বইটিতে সঞ্জয় গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও স্থান পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনীতিতে তার প্রবেশ এবং ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের কেন্দ্রবিন্দুতে কাটানো দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতাও এতে উঠে আসতে পারে।

প্রকাশনা ঘোষণায় সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, তার পরিবার নিয়ে অনেক কিছু লেখা হলেও পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত, কর্মকাণ্ড ও মানবিক দুর্বলতার পেছনের সত্য খুব কমই তুলে ধরা হয়েছে। তার এই স্মৃতিকথায় ছয় দশক ধরে দেখা ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনেরও একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY