ছবি : রয়টার্স
খেলার অন্তিম মুহূর্তের রোমাঞ্চ একেই বলে! ৯০ মিনিট পর্যন্ত ২ গোলে পিছিয়ে থেকে হারের প্রহর গুনছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। কিন্তু যোগ করা সময়ের অবিশ্বাস্য দুই গোল মিলিয়ে যেন পুরো চিত্রপটই বদলে গেল।শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে অধিনায়ক মার্কিনিয়োসের হেডে লিলেকে ২-২ ব্যবধানে রুখে দিয়েছে বর্তমান ফরাসি ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
লিলের মাঠ স্তাদ পিয়ের-মোরায়তে ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ জমে উঠেছিল লড়াই। শুরুতেই আশরাফ হাকিমির একটি প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফেরত আসলে লিড নেওয়া হয়নি প্যারিসিয়ানদের। উল্টো ২৪ মিনিটে অলিভিয়ের জিরুর চোখধাঁধানো এক রিভার্স পাস থেকে জোরালো শটে লিলেকে এগিয়ে দেন আইসল্যান্ডের মিডফিল্ডার হাকোন হারাল্ডসন।দ্বিতীয় অর্ধে পিএসজির হয়ে খভিচা কাভারেস্খেইয়া ও নবাগত মিকা গটস মাঠে নামলেও কাজের কাজ হচ্ছিল না। ৮৪ মিনিটে নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ধারে আসা দিলাইনে বাকওয়ার দুর্দান্ত কার্লিং শটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলে স্বাগতিকরা।
তবে লুইস এনরিকের শিষ্যরা যে হার মানতে নারাজ! ৯০ মিনিট শেষের পর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই ভিতিনিয়ার দৃষ্টিনন্দন এক দূরপাল্লার শট প্রাণ ফেরায় পিএসজি শিবিরে। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে এই পর্তুগিজের ক্রস থেকেই গোল বারের উঁচুতে লাফিয়ে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান অধিনায়ক মার্কিনিয়োস।স্তব্ধ হয়ে যায় লিলের গ্যালারি, উল্লাসে মেতে ওঠে পিএসজি।
নতুন কোচ দাভিদ আনচেলত্তির অধীন শেষ মুহূর্তের এই গোল লিলে শিবিরের জন্য নিঃসন্দেহে এক চরম নির্মম অভিজ্ঞতা। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে মার্কিনিয়োসের সঙ্গেই কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা এই ইতালিয়ান কোচের জয় উদযাপনের জন্য গ্যালারিতে খোদ হাজির ছিলেন তার বাবা ও ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচ শেষে স্বস্তির হাসি হেসে পিএসজি দলপতি মার্কিনিয়োস বলেন, ‘পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচ কখনোই শেষ বাঁশি বাজার আগে শেষ হয় না। আমাদের মূল ইতিবাচক দিক হলো আমাদের মানসিকতা, পিছিয়ে পড়েও ফিরে আসার এই ক্ষমতা সামনের দীর্ঘ মৌসুমের জন্য ভালো বার্তা দিচ্ছে।’
চলতি লিগ ওয়ানে এখনও জয়ের মুখ না দেখলেও এটি পিএসজির টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের ঘটনা। এর আগের ম্যাচেই রেনের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের জোড়া গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল তারা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ধরে রাখার মিশনের আগে দলের এমন লড়াকু মনোভাব ভাবনায় বেশ স্বস্তি দিচ্ছে কোচ লুইস এনরিকেকে। তিনি জানান, ‘মৌসুমের এই শুরুতেই আমরা ১০০ শতাংশ ফর্মে পৌঁছে গেলে তা বরং ঝুঁকিপূর্ণ হতো।’










































