পুলিশ ভ্যানে ধাক্কা দিল পাকিস্তানে তৈরি ‘টেসলা’, ভিডিও ভাইরাল

সংগৃহীত ছবি

‘পাকিস্তানে প্রতিভার কোনো অভাব নেই’—দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক সংকট আর অনগ্রসরতা নিয়ে আলোচনার সময় এই বাক্যটি দেশটির রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ক্রিকেটারদের মুখে হামেশাই শোনা যায়। কিন্তু এই বুলি আওড়াতে গিয়েই চরম ফাসাদে পড়লেন পাকিস্তানি সাংবাদিক মুহাম্মদ আলিজাহ।চালকবিহীন গাড়ির আবিষ্কার দেখাতে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই সেটি সোজা গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারল রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের গাড়িতে!

মুহূর্তের মধ্যেই সেই উদ্ভাবনী প্রদর্শনীর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, যা এখন বিশ্বজুড়ে নেটনাগরিকদের হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন-কে সাংবাদিক আলিজাহ জানান, অ্যাবোটাবাদের প্রযুক্তিপ্রেমী এহসান জাফর তার তৈরি চালকবিহীন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়িটির ওপর রিপোর্ট করার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

আলিজাহ বলেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।এতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সোজা গিয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে।’

তিনি আরো ব্যাখ্যা করেন, গাড়িটি ইন্টারনেটভিত্তিক রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াই এই বিপত্তির মূল কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘টেসলা’র চালকবিহীন গাড়ির মতো পাকিস্তানের নিজস্ব উদ্ভাবন হিসেবে মেলে ধরার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি করা হলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি নিয়ে এখন চলছে ট্রলের বন্যা।

ইসলামাবাদের অতি-সংবেদনশীল ডি-চক এলাকায় ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল। নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করে আলিজাহ দাবি করেন, ‘গাড়িটি স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু রিমোট অপারেশনের সময় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পুলিশ ভ্যানে ধাক্কা মারে।’

নিরাপত্তাবেষ্টিত ও কম যানবাহন থাকা এলাকায় এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ব্যস্ত কোনো রাস্তায় এমনটা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানি ঘটতে পারত। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রশংসনীয়, কিন্তু তা মানুষের জীবনের বিনিময়ে নয়।’ এটি কোনো সমালোচনা নয়, বরং সতর্কবার্তা ও সচেতনতা তৈরির একটি দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এই ব্যাখ্যার পরও নেটদুনিয়ায় ট্রল থামেনি। আলিজাহর পোস্টের নিচে হাসির রোল তুলেছেন পাক নেটিজেনরাই। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ভাই, প্রতিভার কথাটা একেবারে ভুল সময়ে বলে ফেলেছেন!’ অন্য একজন কৌতুক করে লিখেছেন, ‘পুলিশের মার খাননি তো? ভাগ্য ভালো আপনার!’ আরেক ব্যবহারকারী খোঁচা মেরে লেখেন, ‘কী দারুণ ট্যালেন্ট! দুনিয়ার আর কিছু পেল না, সোজা গিয়ে আঘাত করল পুলিশের গাড়িতেই!’  
 

LEAVE A REPLY