সংগৃহীত ছবি
একটি টেলিভিশন কুইজ শো থেকে পাওয়া সামান্য কিছু অর্থ, তা দিয়ে নিজের স্বপ্নপূরণের পথে পথচলা শুরু করা এক তরুণ। আর ঠিক ২৫ বছর পর সেই তরুণই আজ ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কোচ হিসেবে লিখে ফেললেন অবিশ্বাস্য এক রূপকথা! তিনি ভালদাস ডামব্রাউস্কাস—আজারবাইজানের নবাগত ক্লাব সাবাহ এফকে-কে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে তুলে এখন তিনি ফুটবল বিশ্বের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
ইসরায়েলি চ্যাম্পিয়ন হাপোয়েল বিয়ের-শেভাকে রোমাঞ্চকর ফিরতি লেগে ৫-২ গোলে (দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪) হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে সাবাহ। আর এই জয়ের পেছনে মূল নেপথ্য কারিগর দলটির ৪৯ বছর বয়সী লিথুয়ানিয়ান কোচ ডামব্রাউস্কাস। ইতিহাস গড়ার রাতে আবেগে ভেসে যাওয়া ডামব্রাউস্কাস উয়েফাকে বলেন, ‘দারুণ এক রাত কাটল। সমর্থকদের ধন্যবাদ।সাবাহ আমার ক্যারিয়ারে কোচিং করানো সেরা দল। বিশ্বের সেরা টুর্নামেন্টের মূল পর্বে আমরা জায়গা করে নিয়েছি। আজ মনে হচ্ছে, আমিই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী কোচ।’
তবে আজকের এই ডামব্রাউস্কাসের কোচিং ক্যারিয়ারে উঠে আসার পেছনের গল্পটি যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।২০০০ সালের কথা। ২৫ বছরের তরুণ ডামব্রাউস্কাস তখন লিথুয়ানিয়ায় এক টিভি কুইজ শো ‘হু ওয়ান্টস টু বি আ মিলিয়নিয়ার’ প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন। সেই শোর পুরস্কার হিসেবে পান মাত্র ৪,০০০ লিথুয়ানিয়ান লিটাস (যার মূল্যমান তৎকালীন হিসেবে মাত্র ১,৯০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কাছাকাছি)। সেই কুইজে জেতা অর্থ দিয়েই ভাগ্য অন্বেষণে এবং কোচিং শেখার স্বপ্নে তিনি পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে।
ইংল্যান্ডে গিয়ে স্পোর্টস সায়েন্সে পড়াশোনা করার পাশাপাশি কোচিংয়ের নানা কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি।অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ফুলহ্যাম ও ব্রেন্টফোর্ডের মতো ক্লাবের ড্রেসিংরুমে নজর রাখার সুযোগ কাজে লাগান। সেখান থেকেই ইংলিশ ফুটবলের নয় নম্বর স্তরের দল ‘কিংসবারি লন্ডন টাইগার্স’-এর ডাগআউটে দাঁড়িয়ে শুরু হয় তার মূল কোচিং ক্যারিয়ার।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই দূরদর্শী কৌশলবিদকে। ক্রোয়েশিয়ান পরাশক্তি হাজদুক স্প্লিট, লুডোগোরেটস, গোরিকা, ওমোনিয়ার মতো ইউরোপের বেশ কিছু পরিচিত ক্লাবে সফলভাবে দায়িত্ব সামলে গত বছর তিনি হাল ধরেন আজারবাইজানের মাত্র ৯ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ক্লাব সাবাহ এফকের। গত মৌসুমে (২০২৫-২৬) বছরের পর বছর আজারবাইজানের ঘরোয়া লিগে রাজত্ব করা ‘কারাবাগ’-এর একচ্ছত্র আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিয়ে সাবাহকে লিগ ও কাপের ঐতিহাসিক ‘ডাবল’ উপহার দেন তিনি।
আর এবার সেই সাবাহকে নিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাছাইপর্বের রূপকথা লিখলেন তিনি। কুইজ শোর টাকা দিয়ে স্বপ্ন কেনা সেই তরুণ আজ ইউরোপ সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতার মূল পর্বে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বিশ্বের সব নামিদামি ক্লাব ও কোচের।










































