দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক সাফল্য পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। অভিনয় দিয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো আক্ষেপ রয়েছে তাঁর।
অভিনয়ে আসার জন্য একাদশ শ্রেণির পরই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন কারিনা। সম্প্রতি হনুমান দাসের সঙ্গে এক কথোপকথনে সেই সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আমার পড়াশোনা শেষ করতে পারিনি। বিষয়টি এখনো আমার সঙ্গে থেকে গেছে। একাদশ শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করিনি, কারণ আমি সিনেমায় চলে এসেছিলাম।’
তখন অভিনয়কেই নিজের স্বপ্ন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন কারিনা। পড়াশোনা ছেড়ে সিনেমায় আসার কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন, সেটিও জানতেন তিনি। তবে নিজের মনের কথা শুনে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী সময়ে সাফল্য পেলেও অসম্পূর্ণ শিক্ষাজীবনের আক্ষেপ অবশ্য পুরোপুরি কাটেনি তাঁর।
নিজের সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দুই ছেলে তৈমুর ও জেহর ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারিনা। সন্তানদের আগে পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের পছন্দের পথে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
কারিনার কথায়, ‘এই কারণেই আমি আমার ছেলেদের আগে পড়াশোনা শেষ করতে বলি, তারপর নিজেদের মনের কথা অনুসরণ করতে বলি।’
মেয়েদের শিক্ষার বিষয়েও বরাবরই আগ্রহী কারিনা। ২০১৪ সাল থেকে ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।ভারতে মেয়েদের শিক্ষা, লিঙ্গসমতা এবং শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার অধিকার নিয়ে কাজ করছেন এই অভিনেত্রী।
কারিনার মতে, জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। পাশাপাশি দাতব্য কাজ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
তাঁর মতে, মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত নিজের বিশ্বাস ও ইচ্ছা থেকে, লোক দেখানোর জন্য নয়।
মা হিসেবে তৈমুর ও জেহকে বড় করার অভিজ্ঞতাও কারিনার কাছে বেশ আলাদা। বোন কারিশমা কাপুরের সঙ্গে বড় হওয়ায় ছেলেদের জগৎ তাঁর কাছে অনেকটাই নতুন। মজা করে নিজেকে ‘ফুটবল মম’ ও ‘ক্রিকেট মম’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে গুণগুলো দেখতে চান, সেগুলো হলো সহানুভূতি ও দয়া। কারিনার বিশ্বাস, এই দুই গুণ একজন মানুষকে জীবনে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে।
এদিকে বড় ছেলে তৈমুরের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ক্রিকেট কিংবা ফুটবল খেলোয়াড় হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার স্বপ্ন রয়েছে তার। ছেলের এই ইচ্ছাকে সমর্থন করেন কারিনা। তবে বাবা-মা অভিনয়জগতের মানুষ বলেই সন্তানকেও অভিনয়ে আসতে হবে—এমন ধারণায় বিশ্বাসী নন তিনি।
তৈমুর ভবিষ্যতে যে পেশাই বেছে নিক না কেন, নিজের পছন্দ অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে চান কারিনা।
উল্লেখ্য, সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুর খানের বিয়ে হয় ২০১২ সালে। ২০১৬ সালে তাঁদের প্রথম সন্তান তৈমুরের জন্ম হয়। এরপর ২০২১ সালে তাঁদের পরিবারে আসে ছোট ছেলে জেহ।










































