ইউএস ওপেনের ট্রফি হাতে হাস্যোজ্জ্বল জভেরেভ। ছবি : রয়টার্স
২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। মহামারি করোনার কারণে নিউইয়র্কের দর্শকশূন্য ফ্লাশিং মিডোসে হয়েছিল ইউএস ওপেন ফাইনাল।শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে দুই সেট এগিয়ে থেকেও শিরোপা জিততে পারেননি আলেক্সান্দার জভেরেভ।
তবে ছয় বছর পর আরেকটি ১৩ সেপ্টেম্বর সেই নিউইয়র্কেই বিজয়ের হাসি হাসলেন জভেরেভ। যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ সেনসেশন বেন শেল্টনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেনের পুরুষ এককে চ্যাম্পিয়ন হলেন জার্মানির এই টেনিস তারকা।
এটি জভেরেভের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি।এ বছরই তিনি ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেছেন, যেটি ছিল তার প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম।
কাল রাতে ফ্লাশিং মিডোসে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন জভেরেভ। প্রথম সেটে শেল্টনের স্নায়ুচাপ কাজে লাগিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। দ্বিতীয় সেটেও টাইব্রেকারে এগিয়ে গিয়ে সেটটি নিজের করে নেন শীর্ষ বাছাই জভেরেভ।
তবে নিজ দেশের দর্শকদের সমর্থন পাওয়া শেল্টন হাল ছাড়েননি। তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ান ২৩ বছর বয়সী এই মার্কিন। ম্যাচে প্রথমবার জভেরেভের সার্ভিস ভেঙে ৭-৫ ব্যবধানে সেট জিতে লড়াইয়ে ফেরেন তিনি।

চতুর্থ সেটের শুরুতেই অবশ্য শেল্টনের সেই লড়াই থামিয়ে দেন জভেরেভ।প্রথম গেমেই সার্ভিস ব্রেক করে এগিয়ে যান। এরপর ২৪ শটের দীর্ঘ এক র্যালিতে জয় তুলে নিয়ে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন। শেষ পর্যন্ত ৬-২ ব্যবধানে সেট জিতে নিশ্চিত করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা।
এর মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে করোনাকালীন ইউএস ওপেন ফাইনালের দুস্মৃতিও মুছে ফেলেন জভেরেভ। সেবার অস্ট্রিয়ার ডমিনিক থিমের বিপক্ষে দুই সেট এগিয়ে থেকেও হেরে গিয়েছিলেন তিনি।
ইউএস ওপেন জয়ের পুরস্কার হিসেবে ৫৫ লাখ ডলার (৬৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা) পেয়েছেন জভেরেভ।
সাফল্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জভেরেভ বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। ছয় বছর আগে একই টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর থেকে এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছি। আজকের (গত রাতের) জয় আমার জন্য অবিশ্বাস্য।’
২৯ বছর বয়সী জার্মান তারকা আরো বলেছেন, ‘জানতাম, গ্যালারির প্রায় সবাই বেন শেল্টনকে সমর্থন করবে। তবে দর্শকেরা আমার বিপক্ষেও দারুণ আচরণ করেছে। পরিবেশটা অসাধারণ ছিল। তিন মাসের মধ্যে দুটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা আমার কাছে অবিশ্বাস্য ব্যাপার। জার্মান পুরুষ টেনিসের জন্যও এটি বড় অর্জন। এত বছর ধরে যে পরিশ্রম করেছি, এই সাফল্য সেটারই ফল।’










































