সংগৃহীত ছবি
টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) ২০২৬ আসরে পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খানের সাজ নজর কেড়েছে। গাঢ় ওয়াইন রঙের ভারী কারুকাজ করা শাড়িতে উৎসবে হাজির হন তিনি।
শাড়িটির সঙ্গে মাহিরা পরেছিলেন টিল রঙের কাশিদাকারি কাজ করা একটি শাল।
ভারী কানের দুল, হালকা মেকআপ ও স্বাভাবিক ঢেউ খেলানো চুলে মাহিরার পুরো সাজে মূল আকর্ষণ ছিল শাড়িটির কারুকাজ। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাড়িটি তৈরি করতে ১ হাজার ৪৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে বলে জানা গেছে।
.jpg)
পাকিস্তানে শাড়ির ইতিহাস
পাকিস্তানে শাড়ি একসময় পরিচিত ও প্রচলিত পোশাক ছিল।
দেশভাগের আগে হিন্দু ও জরথুস্ত্রীয় নারীদের মধ্যে শাড়ি পরার প্রচলন ছিল। ১৯৪৭ সালের পর ভারত থেকে পাকিস্তানে যাওয়া অনেক পরিবারও সঙ্গে করে নিয়ে যায় এই পোশাকের ঐতিহ্য।
পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানি সিনেমা, টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন এমনকি দৈনন্দিন জীবনেও শাড়ির উপস্থিতি দেখা যেত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে শাড়ির অবস্থানও বদলে যায়।
১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়াউল হক ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানে ইসলামায়ন প্রক্রিয়া জোরদার হয়।
সে সময় শাড়িকে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত পোশাক হিসেবে দেখা শুরু হয়। সরকারি ও আনুষ্ঠানিক পরিসরেও শাড়ির ব্যবহার কমতে থাকে। আশির দশকে এটি দৈনন্দিন জীবন থেকে অনেকটাই সরে যায়।
এরপর পাকিস্তানে নারীদের নিয়মিত পোশাক হিসেবে সালওয়ার-কামিজই বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে শাড়ি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। পারিবারিক সংগ্রহ, স্মৃতি ও বিশেষ অনুষ্ঠানের পোশাক হিসেবে এটি টিকে ছিল।
আবার ফিরছে শাড়ি
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে শাড়ি আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিয়ে, ঈদ ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক আয়োজনে নারীদের শাড়ি পরতে দেখা যাচ্ছে। দেশটির অভিনেত্রীরাও পুরস্কার অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার ও রেড কার্পেটে শাড়ি পরে এই প্রবণতাকে আরও দৃশ্যমান করছেন।
মাহিরা খানও শাড়ির সঙ্গে অপরিচিত নন। এর আগে নিজের ফ্যাশন লেবেল ‘এম বাই মাহিরা’র কালো শাড়িতে দেখা গেছে তাকে। ভারতীয় ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার শাড়িও পরেছেন এই অভিনেত্রী।
.jpg)
ফলে টিআইএফএফে মাহিরার শাড়ি পরা শুধু একটি রেড কার্পেট লুক নয়। পাকিস্তানের সমাজে একসময় কোণঠাসা হয়ে পড়া একটি পোশাক কিভাবে আবার উৎসব, বিয়ে ও আনুষ্ঠানিকতার অংশ হয়ে উঠছে, তারও একটি প্রতীকী চিত্র হয়ে উঠেছে তার এই উপস্থিতি।
দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন মাহিরা
এদিকে টিআইএফএফে মাহিরার উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার ব্যক্তিজীবনের একটি বড় খবরও। গতকাল দ্বিতীয়বার মা হওয়ার কথা প্রকাশ্যে আনেন ৪১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। ১৭ বছর পর আবারও মা হতে চলেছেন তিনি।
মাহিরার প্রথম সন্তান আজলান। এবার স্বামী সালিম করিমের সঙ্গে এটি তার প্রথম সন্তান। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সালিম করিমকে বিয়ে করেন মাহিরা।
নিজের দ্বিতীয় গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাহিরা জানান, এবারের সময়টা তার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূতিপূর্ণ। আনন্দের পাশাপাশি উদ্বেগ, ভয়, ক্লান্তি ও এক ধরনের অরক্ষিত অনুভূতিও কাজ করছে বলে জানান তিনি।
গর্ভধারণের খবর প্রকাশ্যে আনার বিষয়েও শুরুতে দ্বিধায় ছিলেন মাহিরা। বিশেষ করে টিআইএফএফের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনের রেড কার্পেটে কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন, তা নিয়েও তার ভাবনা ছিল। শেষ পর্যন্ত শাড়িকেই বেছে নেন তিনি।










































