সংগৃহীত ছবি
প্রতিদিনের একটি সাধারণ অভ্যাস বদলেই যদি অর্থ বাঁচে, শরীর-মন সতেজ থাকে, এমনকি কমে পরিবেশদূষণও—তাহলে কেমন হয়? এর জন্য বাড়তি কোনো খরচ নেই, নেই বড় কোনো প্রস্তুতিও। শুধু গোসলের সময় গরম পানির বদলে ব্যবহার করতে হবে ঠাণ্ডা পানি।তবে এটি সহজ হলেও অনেকের কাছে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করা বড় অস্বস্তির।
মনোবিজ্ঞানী ড. লেনা গ্লেজারের গবেষণায় উঠে এসেছে, ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের অভ্যাস শরীর ও পরিবেশ—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে তিনি ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী ৭১৯ জন সুস্থ মানুষকে নিয়ে ১২ সপ্তাহের একটি গবেষণা করেন। অংশগ্রহণকারীদের আগে থেকে ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের অভ্যাস ছিল না।তাদের গোসলের পানির তাপমাত্রা যতটা সম্ভব কমিয়ে ব্যবহার করতে বলা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যেই কয়েকজন অংশগ্রহণকারী গবেষণা থেকে সরে দাঁড়ান। তবে এরপর এর হার কমে আসে। গ্লেজারের ধারণা, সময়ের সঙ্গে মানুষ ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা এই অভ্যাস ধরে রেখেছেন, তাদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির কথা জানিয়েছেন। গোসলের পর নিজেকে সতেজ অনুভব করেছেন কেউ কেউ অস্বস্তিকর কাজটি করতে পারার মধ্যেও পেয়েছেন আত্মতৃপ্তি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, গবেষণায় অংশ না নেওয়াদের তুলনায় অসুস্থতাজনিত ছুটির পরিমাণ গড়ে ৩১ শতাংশ কম ছিল।
তবে সুফল শুধু স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে সাধারণত কম সময় লাগে।ফলে পানির ব্যবহার কমে, পাশাপাশি পানি গরম করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও সাশ্রয় হয়। এতে কমতে পারে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খরচ এবং কার্বন নিঃসরণ।
গবেষণা অনুযায়ী, তিন থেকে চার মিনিটের ৪০ লিটার পানির একটি গোসলের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৫ ডিগ্রিতে নামিয়ে আনলে ১ দশমিক ৩ কিলোওয়াট-ঘণ্টা শক্তি সাশ্রয় হয়। এই পরিমাণ শক্তি দিয়ে একবার কাপড় ধোয়ার মেশিন চালানো যায়, কিংবা একটি মোবাইল ফোনে প্রায় ১০০ বার চার্জ দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া ১২ সপ্তাহে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী প্রায় ১৫ কেজি কার্বন নিঃসরণ কমিয়েছেন, যা ১০০ কিলোমিটার গাড়ি চালানোর ফলে সৃষ্ট নিঃসরণের সমান।
তবে শুরুতেই যে বরফশীতল পানিতে গোসল করতে হবে, এমন নয়। গ্লেজারের পরামর্শ, ধীরে ধীরে পানির তাপমাত্রা কমিয়ে নিজের সহনশীলতা বুঝে এগোতে হবে। অর্থাৎ, পরিবেশ রক্ষায় সব সময় বড় বিনিয়োগ বা জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো গোসলের পানির তাপমাত্রা একটু কমিয়ে দেয়ার মতো ছোট অভ্যাসও নিজেকে সতেজ রাখার পাশাপাশি, অর্থ সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।











































