ছুটির দিনেই কেন তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে যায়

ছবি : এআই জেনারেটেড

সারা সপ্তাহ কাজ বা পড়াশোনার চাপে সকালে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে। তাই ছুটির দিনে অনেকেই ভাবেন, আজ আর তাড়াহুড়ো নেই, ইচ্ছেমতো ঘুমাবেন।কিন্তু অবাক করে দিয়ে ছুটির দিনেও নির্দিষ্ট সময়ের কাছাকাছি ঘুম ভেঙে যায়। অ্যালার্ম বন্ধ, কাজের চাপ নেই—তারপরও কেন এমন হয়? এর পেছনে বড় ভূমিকা থাকতে পারে শরীরের নিজস্ব ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমের।

শরীরের নিজস্ব ঘড়ি মেনে চলে ঘুম

মানুষের শরীরে একটি অভ্যন্তরীণ সময় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। এটি দিনের আলো ও অন্ধকারের সঙ্গে মিল রেখে কখন ঘুম পাবে এবং কখন ঘুম ভাঙবে, তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।সপ্তাহের কর্মদিবসে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি হলে ছুটির দিনেও শরীর সেই সময়ের কাছাকাছি জেগে উঠতে পারে।

অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম ভাঙে কেন?

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরকে একটি নির্দিষ্ট রুটিনে অভ্যস্ত করে তোলে। ফলে ছুটির দিনেও অ্যালার্ম না থাকলেও শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি সেই পরিচিত সময়ের কাছাকাছি জেগে ওঠার সংকেত দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথের (এনআইওএসএইচ) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির জন্য ভালো।

সকালের আলোও ঘুম ভাঙাতে পারে

ঘুম ও জাগরণের সময় নিয়ন্ত্রণে আলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সকালে জানালা দিয়ে সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করলে কিংবা বাইরে থেকে আলো চোখে পড়লে মস্তিষ্ক জেগে ওঠার সংকেত পায়। এ কারণেও ছুটির দিনে নির্দিষ্ট সময়ের কাছাকাছি ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

ছুটির দিনে ঘুমের রুটিন বদলালে কী হয়?

কর্মদিবস ও ছুটির দিনের ঘুমের সময়ের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যেমন, সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠে ছুটির দিনে অনেক দেরি করে ওঠার পরিকল্পনা করলে শরীরের ঘুম-জাগরণের ছন্দের সঙ্গে তা মেলাতে অসুবিধা হতে পারে।তাই ছুটির দিনেও ঘুমের সময়সূচি যতটা সম্ভব নিয়মিত রাখা ভালো।

ছুটির দিনে বেশি ঘুমাতে চাইলে কী করবেন?

  • প্রতিদিন ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার সময় কাছাকাছি রাখুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ তৈরি করুন; শুধু ছুটির দিনের ওপর ঘুমের ঘাটতি পূরণের দায়িত্ব দেবেন না।
  • ঘুমানোর আগে মোবাইল ও অন্যান্য উজ্জ্বল পর্দার ব্যবহার কমিয়ে আনুন।
  • ঘুমের পরিবেশ শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন।
  • ঘুম ভেঙে গেলেও ক্লান্ত লাগলে দিনের বেলায় বিশ্রামের সুযোগ নিতে পারেন।

তবে ছুটির দিনেই নয়, নিয়মিত খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়া, আবার ঘুমাতে না পারা কিংবা পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি অনুভব করার সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ ঘুমের সময়সূচি ছাড়াও মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা কিংবা শারীরিক কিছু কারণ এর পেছনে থাকতে পারে।

LEAVE A REPLY