উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি স্থগিতের বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রস্তাবের কথা জানান।
প্রেসিডেন্ট লি মনে করেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে ঠেকানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে যদি পিয়ংইয়ং তাদের অতিরিক্ত পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন বন্ধ করে, তবে তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রথম’ নীতি থেকে সরে এসে ‘শান্তি প্রথম প্রতিষ্ঠা’ নীতি গ্রহণ করছেন।
সাক্ষাৎকারে লি জানান, বর্তমান অচলাবস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া এখন প্রতি বছর নতুন করে ১০ থেকে ২০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সামর্থ্য রাখে। একপর্যায়ে নিজেদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুদ হয়ে গেলে, অর্থ উপার্জনের জন্য পিয়ংইয়ং সেগুলো বিদেশে রপ্তানি করার চেষ্টা করতে পারে, যা বিশ্ব শান্তির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে।
লি-এর মতে, সরাসরি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের চেষ্টা না করে আগে অস্ত্র উৎপাদন স্থগিত করানো দরকার। এরপর ধাপে ধাপে পারস্পরিক ছাড় ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আস্থা তৈরি করা সম্ভব হলে, উত্তর কোরিয়াকে পরবর্তীতে অস্ত্র কমানোর জন্য রাজি করানো যেতে পারে।
বর্তমানে দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী সম্পর্ক বেশ স্থবির অবস্থায় রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ইতোমধ্যেই পুনর্মিলন নীতি বাদ দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি-ও এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে লি জে মিয়ং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার বিষয়ে তার এই নতুন রূপকল্প ও কৌশল বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন।









































