ট্রাম্পের রুশ ডিজেল চুক্তি বাতিলের দাবিতে একজোট রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাটরা

মার্কিন সিনেটর থম টিলিস। ছবি : রয়টার্স

রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ডিজেল চুক্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে। এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির পুতিনের জন্য একটি বড় আর্থিক সুবিধা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলেরই শীর্ষস্থানীয় সাত আইনপ্রণেতা।গত রবিবার এক বিবৃতিতে এই অনুরোধ জানান তারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারজন রিপাবলিকান ও তিনজন ডেমোক্র্যাটসহ মোট সাতজন সিনেটর একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, পুতিন যাতে মার্কিন ডলার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর যুদ্ধে ব্যবহার হতে না পারে, সেজন্য কংগ্রেস ২০২২ সালেই রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছিল।

এর আগে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ডিজেল কেনার চুক্তি করেছেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করেনি।আইন অনুযায়ী, সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

রাশিয়া যখন ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করে চলেছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয় পুতিনকে আর্থিকভাবে টিকে থাকার সুযোগ করে দেওয়া। প্রশাসনকে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে বলে বিবৃতিতে আরো যোগ করেন তারা।

তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ভারতে পাঠাচ্ছে কানাডা

ট্রাম্পের চুক্তির বিরুদ্ধে এটি ছিল দুই দলের মিলে সর্বশেষ বড় প্রতিবাদ।৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই ঘটনা ঘটল। সাধারণত ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তে তার নিজের দল (রিপাবলিকান) পুরোপুরি সমর্থন দেয়, কিন্তু এবার চিত্র বদলে গেছে। এই নির্বাচনই ঠিক করবে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে কি না।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী রিপাবলিকান সিনেটররা হলেন মেইনের সুসান কলিন্স, আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি, নর্থ ক্যারোলাইনার থম টিলিস ও ইউটার জন কার্টিস। ডেমোক্র্যাট সিনেটররা হলেন নিউ হ্যাম্পশায়ারের জিন শাহিন ও কানেকটিকাটের রিচার্ড ব্লুমেনথাল।

রবিবার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’অনুষ্ঠানে টিলিস বলেন, প্রশাসন ডিজেল কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে প্রেসিডেন্ট আইন অনুসরণ করছেন না—এমন অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়াই আগ্রাসনকারী এবং দখল করা ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করে যুদ্ধ বন্ধ করার দায়িত্বও দেশটির।’

এদিকে চাষাবাদ, ঘর গরম রাখা এবং মালপত্র পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম এখন রেকর্ড ছুঁইছুঁই। ডিজেলের এই চড়া দাম আগামী মাসের কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধরনের ভোটের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা  জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের এই চুক্তির কারণে বাজারের জ্বালানির দাম যে স্থায়ীভাবে কমবে, তেমন সম্ভাবনা খুবই কম।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত রবিবার ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন দেশের বর্তমান আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করেই এই চুক্তিটি কার্যকর করবে। তিনি আরো দাবি করেন, এই চুক্তিটি মার্কিন জনগণের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর হবে এবং এর ফলে বাজারে জ্বালানির দাম কমে আসবে।

তবে রিপাবলিকান সিনেটর জন বারাসো মনে করেন, জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই ট্রাম্প এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত মার্কিন আইন লঙ্ঘন করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়।

একই সঙ্গে গত মাসে কংগ্রেসে পাস হওয়া নিষেধাজ্ঞা আইন কার্যকর করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান বারাসো। তিনি বলেন, বিশ্বের ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এটি প্রেসিডেন্টের জন্য আরেকটি হাতিয়ার হতে পারে।

গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’তে একমত হয়েছে এবং এটি এখনই কার্যকর হবে। তবে এই যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত বা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

LEAVE A REPLY