ঘুমের ঘাটতিতে কমে আত্মনিয়ন্ত্রণ, বাড়ে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি

ওজন কমানো বা সুস্থ থাকার আলোচনায় সাধারণত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামই প্রধান গুরুত্ব পায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অপর্যাপ্ত ঘুম ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একইভাবে দায়ী হতে পারে।চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত এর চেয়ে কম ঘুমালে শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া (মেটাবলিজম) ব্যাহত হয় এবং হরমোনের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে, যা সরাসরি মেদ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দায়ী। একই সাথে এটি মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড বা পুরস্কার কেন্দ্রকে অতিসক্রিয় করে তোলে।ফলে ক্লান্ত থাকলে মানুষের মস্তিষ্ক সহজেই জাঙ্ক ফুড, মিষ্টি ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং ক্ষতিকর খাবার প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

‘আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’ ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমবঞ্চিত মানুষেরা রাত জেগে উচ্চ শর্করা ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ করেন। পর্যাপ্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের তুলনায় ঘুম কম হওয়া ব্যক্তিরা দ্বিগুণেরও বেশি চর্বিযুক্ত খাবার বেছে নেন। এছাড়া, ডায়েট করার পরও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের চর্বি কমার হার অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৫৫%) কমে যায়।

কম ঘুমের ফলে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা শরীরকে ফ্যাট বা চর্বি জমিয়ে রাখার সংকেত দেয়। পাশাপাশি, মাত্র ৪ দিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা ৩০ শতাংশের বেশি কমে যায়। এতে রক্ত থেকে শর্করা ও ফ্যাট প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাঘাত ঘটে এবং তা চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হতে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন ও স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘুমের পরিবেশ এবং অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি:

স্ক্রিনটাইম কমানো: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, কম্পিউটার ও টিভি বন্ধ করা।

নির্দিষ্ট সময়সূচি: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে ওঠার অভ্যাস করা।

শোবার ঘরের পরিবেশ: শোবার ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখা, যা ঘুমের প্রাকৃতিক হরমোন মেলাটোনিন নিঃসরণে সাহায্য করে।

খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ: ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার এড়ানো এবং দুপুর ২টার পর ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় (চা, কফি, সোডা) থেকে বিরত থাকা।

LEAVE A REPLY