সোমালিয়ায় সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, বহু হতাহতের আশঙ্কা

ছবি : রয়টার্স।

সোমালিয়ার সরকারি বাহিনী ও আল-শাবাব বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের দেওয়া তথ্যে এ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আল-কায়দার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আল-শাবাব প্রায় দুই দশক ধরে সোমালিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। 

গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক অভিযান চালানো হলেও দেশটির মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আল-শাবাবের দাবি, সোমবার বিকেলে লোয়ার শাবেলে অঞ্চলে তুরস্কের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সরকারি সেনা ও তাদের সহযোগী মিলিশিয়াদের ওপর হামলা চালায় তারা।এ হামলায় ৩২১ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, লিগো শহরের কাছে সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর হাতে আল-শাবাবের ৭৫ জন যোদ্ধা নিহত এবং আরো ৫৬ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন বানুদা’র অংশ হিসেবে ২৬ অক্টোবর জামিকা এলাকায় আল-শাবাবের অবস্থান লক্ষ্য করে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বড় ধরনের অভিযান চালায় সোমালি ন্যাশনাল আর্মি। তবে সংঘর্ষে হতাহতের বিষয়ে কোনো পক্ষের দেওয়া তথ্যই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আল-শাবাব আরো দাবি করেছে, তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই অতর্কিত হামলায় তারা বেশ কয়েকজনকে বন্দী করেছে। এ ছাড়া অস্ত্র ও যানবাহনও জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চিত করেছে, হামলায় বিস্ফোরক বোঝাই যানবাহন ব্যবহার করেছিল সশস্ত্র গোষ্ঠী। 

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলায় কয়েকটি সামরিক যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘বাইদোয়া অনলাইন’ জানিয়েছে, লিগো শহরের কাছে আল-শাবাব যোদ্ধাদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানি ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম হারানোর ঘটনা নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সোমালি সরকারের প্রধান সমর্থক হিসেবে তুরস্কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশ বিদ্রোহীদের দমনে সোমালিয়াকে সহায়তা দেওয়া থেকে সরে আসছে।

ওয়াশিংটন জাতিসংঘ পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক মিশনে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। এই মিশনের মাধ্যমে সোমালিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করা হতো। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সোমালিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং বিদ্রোহীদের হুমকি মোকাবিলায় দেশটির সরকার কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

LEAVE A REPLY