পাবনার মালঞ্চি ইউনিয়নে সোনাপাতিল বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জন নিহতের ঘটনায় জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দাফন ও জরুরি আর্থিক সহায়তা হিসেবে নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার ও আহতের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে এ অনুদান তুলে দেওয়া হয় হতাহতদের পরিবারের হাতে।
অনুদান প্রদানের সময় অন্যদের মধ্যে পাবনা প্রেস ক্লাবের সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তামারা তাসবিহা ও মালঞ্চি ইউপি চেয়ারম্যান কবির আহমেদ বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তামারা তাসবিহা জানান, উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের কয়েকজন সোনাপাতিল বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় তারা পাশের একটি ছাউনিতে আশ্রয় নিলে সেখানে আকস্মিক বজ্রপাতে ৬ জন মারা যান।এ ঘটনায় ৩ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইউএনও জানান, নিহতদের বাড়ি গিয়ে প্রত্যেকের পরিবারকে দাফন ও জরুরি সহায়তা হিসেবে নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে আহত ৩ জনকে চিকিৎসার জন্য প্রত্যেক পরিবারের হাতে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।জেলা প্রশাসক স্যার নিজে উপস্থিত থেকে এ অনুদান তুলে দেন।
এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এ ব্যাপারে শোক জানানোর পাশাপাশি খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশনা দিয়েছেন। হতাহত পরিবারের আরো কোনো ধরনের সহায়তা প্রয়োজন হলে সেটিও দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকার বিলে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার ৯ জন বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করতে যায়। এসময় বজ্রপাতে ৬ জন নিহত হন এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন- মালঞ্চির ভাই ভাই মোড় এলাকার শাহাবুলের ছেলে আব্দুল্লাহ (২১), নলমুড়া গ্রামের ইসমাইল মোল্লার ছেলে রব্বেল (২২), গজমতি গ্রামের রবিউলের ছেলে শাওন (২২), নলমুরা গ্রামের শাহজাহানের ছেলে মিজান (১২) একই গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ (১০) ও ইবাদুলের ছেলে ইমন (১৪)।









































