সংগৃহীত ছবি
সুস্থ থাকা মানেই যে শরীরের ভেতরে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। অনেক শারীরিক সমস্যা একদম নীরবেই শরীরে দানা বাঁধে, যার কোনো বাহ্যিক লক্ষণ প্রাথমিক অবস্থায় বোঝা যায় না।তাই পুরোপুরি সুস্থ বোধ করলেও বছরে কয়েকটি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রতিটি সচেতন মানুষের জন্য জরুরি। চলুন, জেনে নিই সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে যে পরীক্ষাগুলো করানো প্রয়োজন।
কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট
কেন প্রয়োজন : সিবিসি পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), যেকোনো ধরনের সংক্রমণ এবং রক্তজনিত জটিলতা খুব সহজেই শনাক্ত করা যায়। এটি শরীরের সার্বিক সুস্থতার একটি মৌলিক ধারণা দেয়, যা ভবিষ্যতে যেকোনো চিকিৎসার ক্ষেত্রেও রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।
ফাস্টিং ব্লাড সুগার
কেন প্রয়োজন : ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করতে এ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে (এইচবিএ ওয়ান সি) পরীক্ষার মাধ্যমে বিগত তিন মাসের গ্লুকোজের গড় মাত্রা জানা যায়। ৩০ বছরের ঊর্ধ্বের যেকোনো ব্যক্তি এবং পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে এমন প্রত্যেকেরই নিয়মিত এটি পরীক্ষা করানো উচিত।
লিপিড প্রোফাইল (রক্তের কোলেস্টেরল পরীক্ষা)
কেন প্রয়োজন : রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা থাকলেও বাইরে থেকে কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না, অথচ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।লিপিড প্রোফাইলের মাধ্যমে টোটাল কোলেস্টেরল, এলডিএল (বাজে কোলেস্টেরল), এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল) ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। ২৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, কায়িক পরিশ্রম কম করেন এমন কেউ কিংবা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে।
রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ
কেন প্রয়োজন : উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই এটি দীর্ঘদিন ধরে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ মাপানো উচিত।
ভিটামিন ডি ও বি১২ লেভেল
কেন প্রয়োজন : শহুরে জীবনযাত্রায় এই দুই ভিটামিনের ঘাটতি খুবই সাধারণ ঘটনা। এসবের অভাবে অলসতা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এমনকি মনোযোগ ও মেধার ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
যাদের জন্য প্রযোজ্য : সারা দিন ঘরের ভেতর বা এসি রুমে কাজ করেন এমন ব্যক্তি, ক্রমাগত ক্লান্তি বোধ করা মানুষ বা বিশেষ খাদ্যভ্যাস মেনে চলা ব্যক্তিবর্গ।
ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) – ঝুঁকিপূর্ণদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
কেন প্রয়োজন : সবার ক্ষেত্রে প্রতিবছর ইসিজির প্রয়োজন নেই। তবে পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা বুকে অস্বস্তির মতো কোনো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে বছরে একবার ইসিজি করানো যেতে পারে।
পরামর্শ : কোনো শারীরিক ঝুঁকি বা লক্ষণ না থাকলে অযথা নিয়মিত ইসিজি করানোর প্রয়োজন নেই।
ইউরিন রুটিন ও মাইক্রোস্কোপি
কেন প্রয়োজন : প্রস্রাবের সাধারণ এই পরীক্ষাটির মাধ্যমে কিডনির প্রাথমিক সমস্যা, প্রস্রাবের ইনফেকশন কিংবা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।
যাদের জন্য প্রযোজ্য : উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা বারবার প্রস্রাবে ইনফেকশনে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য আবশ্যক।
প্যাফ স্মিয়ার টেস্ট (নারীদের ২১-৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত)
কেন প্রয়োজন : জরায়ুমুখের ক্যান্সার শুরুতেই ধরা ফেলার জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষা। প্রতি ৩ বছর পর পর এই পরীক্ষা করানো উচিত। তবে গাইনি চিকিৎসকের পরামর্শে তা বছরে একবারও করা যেতে পারে।
স্তন ও প্রোস্টেট পরীক্ষা
নারী : চিকিৎসকের মাধ্যমে বছরে অন্তত একবার স্তন পরীক্ষা করানো উচিত (পাশাপাশি নিজের স্তন নিজেকে প্রতি মাসে পরীক্ষা করতে হবে)। ঝুঁকি থাকলে ৪০ বছরের পর ম্যামোগ্রাম করানো যেতে পারে।
পুরুষ (৫০ বছরের ঊর্ধ্বে) : পারিবারিক ঝুঁকি বা কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পিএসএ টেস্ট বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। লক্ষণ না থাকলে ৫০ বছরের নিচে এটি করার প্রয়োজন নেই।
দৃষ্টিশক্তি ও দাঁতের নিয়মিত পরীক্ষা
চোখের পরীক্ষা : বছরে অন্তত একবার দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করানো ভালো। এতে গ্লুকোমার মতো রোগ কিংবা ডায়াবেটিস-উচ্চ রক্তচাপজনিত কোনো প্রাথমিক লক্ষণ চোখে পড়ছে কি না তা জানা যায়।
দাঁতের চেকআপ : ক্যাভিটি রোধ করতে এবং মুখের ভেতরের যেকোনো ইনফেকশন প্রাথমিক অবস্থায় প্রতিরোধে বছরে অন্তত একবার ডেন্টিস্ট দেখানো প্রয়োজন।
বোনাস- মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং
শরীরের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা ডিপ্রেশনের মতো সমস্যাগুলো দূর করতে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের চর্চা রাখা উচিত।











































