বাদামি রুটি কি সত্যিই বেশি স্বাস্থ্যকর

সংগৃহীত ছবি

আধুনিক সময় অল্পতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন বিষয় ছড়িয়ে পড়ে। এতে একদিকে যেমন তথ্যের সহজলভ্যতা বেড়েছে, একইসঙ্গে বিভ্রান্তিও বেড়েছে।আজকাল প্রায়ই বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করতে দেখা যায়, সাদা রুটি বাদ দিয়ে ব্রাউন ব্রেড বা বাদামি রুটি খাওয়া স্বাস্থ্যকর। আর সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেকেই দৈনন্দিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করেন বাদামি রুটি।

এ রুটি নিয়মিত খাওয়া হলেও একটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিই কি বাদামি রুটি সাদা রুটির তুলনায় ভালো? এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটির মনিপাল হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিনের কনসালটেন্ট ডা. নেথ্রা এন।তাহলে এই চিকিৎসকের পরামর্শ জেনে নেয়া যাক।

বাদামি রুটি কি তুলনামূলক ভালো

ডা. নেথ্রা জানিয়েছেন, স্বাভাবিকভাবেই সাদা রুটির তুলনায় বাদামি রুটিকে বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করা হয়। যদিও তা সবসময় সত্য নয়। রুটির পুষ্টিগুণ কখনো এর রঙের ওপর নির্ভর করে না।বরং রুটি তৈরিতে কোন ধরনের আটা বা ময়দা ব্যবহার করা হয়েছে, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেমন এবং তৈরির সময় কী কী উপাদান মেশানো হয়েছে—তার ওপর পুষ্টিগুণ নির্ভর করে।

তিনি বলেন, গোটা গমের আটার রুটি স্বাস্থ্যকর পছন্দ। কেননা, এতে গমের দানার তুষ বা ব্র্যান, ভ্রুণ ও শাঁস বজায় থাকে। এ কারণে পরিশোধিত গমের আটা থেকে তৈরি রুটির তুলনায় এটি খাদ্যআঁশ, ভিটামিন বি এবং খনিজের জন্য দুর্দান্ত উৎস হয়ে ওঠে।

এছাড়া ফাইবার পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে।আবার রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। নিয়মিত গমের আটার রুটি  খাওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভালো উপকার পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, বাদামি রুটি মানেই সেটি সবসময় শতভাগ পূর্ণাঙ্গ গমের আটার তৈরি, এমন ধারণা সঠিক নয়।

ডা. নেথ্রা জানিয়েছেন, আজকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের বাদামি রুটি পাওয়া যায়, যা মূলত পরিশোধিত ময়দা দিয়ে তৈরি এবং এতে বাদামি রঙ আনার জন্য ক্যারামেল বা গুড়ের মতো কৃত্রিম রং বা উপাদান ব্যবহার করা হয়। এসব রুটি দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও পণ্যের পুষ্টির মান সাদা রুটির মতো একই হতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষ কিছু ধরনে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বি থাকারও সম্ভাবনা থাকে।

এদিকে সাদা রুটি সাধারণত পরিশোধিত গমের ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয়। সাদা ময়দা তৈরির সময় তুষ ও ভ্রুণ ফেলে দেয়া হয়। এ কারণে এতে ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে এবং যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অল্পতেই বাড়াতে পারে। এর অর্থ এমন নয়, সাদা রুটি শুরু থেকেই ক্ষতিকর। বরং পরিমাণের ওপর নিয়ন্ত্রণ, সার্বিক খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তিগত শারীরিক প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ করে খাওয়া যেতে পারে।

পরামর্শ

রুটি কেনার সময় প্যাকেট থেকে এর রং বা বিজ্ঞাপন দেখে আগ্রহী না হয়ে বরং উপকরণের তালিকা দেখুন। ‘হোল হুইট ফ্লাওয়ার’ বা ‘হোল গ্রেইন ফ্লাওয়ার’ (পূর্ণাঙ্গ গমের আটা বা পূর্ণ শস্যের আটা) লেখা দেখে তবেই কিনুন। ‘মাল্টিগ্রেন’ বা ‘ব্রাউন’ শব্দের অর্থ এই নয়, পণ্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শতভাগ পূর্ণ শস্য দিয়ে তৈরি। এ জন্য ফাইবার, অতিরিক্ত চিনি ও সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনা করে পণ্য নির্বাচন করুন।

LEAVE A REPLY