সংগৃহীত ছবি
শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি মেটাতে নানা ধরনের ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ঘরোয়া উপায়ও অবলম্বন করেন কেউ কেউ।তবে সম্প্রতি অনেককেই কালো তিল খাওয়ার কথা শোনা যায়। কিন্তু এই কালো তিল কতটা উপকারী, তা কি জানা আছে?
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কালো তিল খাওয়া হলে চুল পড়া কমা, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং শক্তি বাড়ে। এমনকি নারীদের ঋতুস্রাবের অনিয়মও কিছুটা কমে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় টানা তিন মাস তিল খাওয়ার নানা উপকারিতাও ছড়িয়ে পড়েছে।ডা. অনিকেত মুল কালো তিল খাওয়ার নানা গুণাগুণ ও ভুল ধারণা জানিয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, কালো তিলকে অনেকেই শুধু স্বাদ বাড়ানোর উপকরণ ভেবে থাকেন। এটি ভুল। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও বেশ সমৃদ্ধ কালো তিল।এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন, হাড় ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজে প্রয়োজন হয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম।
এছাড়া স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের সামগ্রিক পুষ্টি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এ কারণে খাদ্যতালিকায় অল্প পরিমাণ করে হলেও নিয়মিত কালো তিল রাখলে পুষ্টির ঘাটতি পূরণে বড় উপকার পাওয়া যায়। যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায় ক্লান্তি দূর, ত্বক ভালো ও চুলের স্বাস্থ্যে।
তবে কিছু ভুল ধারণাও রয়েছে। কালো তিল খাওয়া হলে চুল পড়া বন্ধ হবে, রক্তাল্পতা সেরে যাবে বা হরমোনের সমস্যা কেটে যাবে―এমন ভাবা ভুল। ডা. অনিকেতের মতে, কালো তিলে বিদ্যমান আয়রন নন-হিম আয়রন, যা শরীর তুলনামূলক কম শোষণ করে থাকে। এ কারণে আয়রনের ঘাটতি থাকলে তিলের সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া হলে উপকার পাওয়া যায়। তবে মাঝারি বা গুরুতর রক্তাল্পতার ক্ষেত্রে শুধু তিলের ওপর নির্ভর করা যাবে না। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্দিষ্ট আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।
আবার অনেকেই অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যায় তিলকে ওষুধ বা নিশ্চিত সমাধান মনে করেন। এটিও ভুল। পুষ্টির ঘাটতি বা মানসিক চাপের জন্য ঋতুচক্রে সমস্যা হলে সুষম খাবার সহায়ক হতে পারে। তবে পিসিওএস, থাইরয়েডের সমস্যা বা ওজনের পরিবর্তনের মতো কারণেও ঋতুস্রাব নিয়মিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
সীমাবদ্ধতা জানার পরও কেন এই কালো তিল খাবেন―এ প্রশ্নও অনেকের। কারণ, কালো তিল অল্প পরিমাণ খেলেও কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়। বিশেষ করে যাদের খাদ্যতালিকায় আয়রন, ক্যালসিয়াম বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ঘাটতি রয়েছে, তাদের জন্য কালো তিল হতে পারে সহজলভ্য সংযোজন। নিয়মিত সুষম খাবারের অংশ হিসেব কালো তিল খেতে পারে। আর মনে রাখতে হবে, কালো তিল শুধু খাবার নয়, পুরো খাদ্যাভ্যাসই শরীরের সুস্থতায় অবদান রাখে। এছাড়া যেকোনো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।











































