সিনেমাটির কাজ শেষ করে যেতে পারলেন না অস্কারজয়ী নির্মাতা

সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলী ও মানবিক গল্প বলার জন্য পরিচিত ছিলেন চিলির চলচ্চিত্র নির্মাতা সেবাস্টিয়ান লেলিও। তার হাত ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি পেয়েছিল চিলির সিনেমা।সেই অস্কারজয়ী নির্মাতা আর নেই। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে লেলিওর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তার পরিবার।পোস্টে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করা হলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। 

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘তার স্মৃতি আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি একজন চমৎকার মানুষ ছিলেন, যিনি চিলির সংস্কৃতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।’

২০১৮ সালে ‘আ ফ্যান্টাস্টিক ওম্যান’ সিনেমার জন্য সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে একাডেমি পুরস্কার বা অস্কার জেতেন লেলিও।আগে এই বিভাগটি বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। সিনেমাটিতে একজন ট্রান্সজেন্ডার নারীর জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন নির্মাতা।

ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন ট্রান্সজেন্ডার অভিনেত্রী ড্যানিয়েলা ভেগা। তিনি একজন ওয়েট্রেস ও নাইটক্লাবের গায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন, যার প্রেমিকের আকস্মিক মৃত্যুর পর জীবন নানা সংকটের মুখে পড়ে। সিনেমাটি চিলির চলচ্চিত্র ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নেয়।এটি ছিল দেশটির দ্বিতীয় অস্কার জয়। এর আগে ২০১৬ সালে ‘বিয়ার স্টোরি’ নামের একটি অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এই সম্মান অর্জন করেছিল।

‘আ ফ্যান্টাস্টিক ওম্যান’ ছাড়াও লেলিওর উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকায় রয়েছে ‘গ্লোরিয়া’, ‘দ্য ওয়েভ’, ‘দ্য ওয়ান্ডার’, ‘ডিসওবিডিয়েন্স’ ও ‘দ্য ইয়ার অব দ্য টাইগার’। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ করতে গিয়ে তিনি জুলিয়ান মুর, র‍্যাচেল ভাইস ও ফ্লোরেন্স পিউয়ের মতো অভিনেতাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন।

মৃত্যুর আগে নতুন সিনেমা ‘পোয়েতা চিলেনো’ বা ‘চিলিয়ান পোয়েট’ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এই নির্মাতা। আলেজান্দ্রো জামব্রার বই অবলম্বনে নির্মিতব্য ছবিটির শুটিং শুরু করেছিলেন চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে। তবে সিনেমাটির কাজ শেষ করে যেতে পারলেন না তিনি।

আর্জেন্টিনার মেনদোসায় জন্ম নেওয়া লেলিও মাত্র দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে চিলিতে চলে আসেন। চিলির চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগে এক বছর সাংবাদিকতা নিয়েও পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিজের নির্মাণকর্মের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে জায়গা করে নেন এই নির্মাতা। তার মৃত্যুতে চিলির চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

LEAVE A REPLY