দেশে ফিরেছেন লিজা, ফিরেছেন গানেও

সানিয়া সুলতানা লিজা

দেশে ফিরেই গানের কাজ শুরু করে দিয়েছেন সানিয়া সুলতানা লিজা। ঈদে প্রকাশ করবেন নতুন গানচিত্র। গায়িকার সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ।

ইয়াশাকে নিয়ে দেশে
গত বছর আমেরিকা গিয়েছিলেন লিজা।

সেখানেই জন্ম দিয়েছেন প্রথম সন্তান ইয়াশাকে। ১৯ মার্চে জন্ম নেওয়া ইয়াশার বয়স দুই মাস হতেই দেশে ফিরেছেন লিজা। গত সপ্তাহে দেশে ফিরে আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মেলাতে একটু ঝামেলা হচ্ছে মা-মেয়ের। দুজনেরই সামান্য ঠাণ্ডা লেগেছে বলে জানালেন লিজা।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন নিয়মিত। লিজা বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য এই সময়টা খুব স্পর্শকাতর। সামান্য ঠাণ্ডা থেকে বুকে কফ জমে যেতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম।

এখন আমরা আগের চেয়ে সুস্থ। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বাসায়ই থাকছি।’

গানে ফেরা
ছয়-সাত মাস গান থেকে দূরে সরে ছিলেন। ‘ক্লোজআপ ওয়ান—তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ বিজয়ী হওয়ার পর আর কখনোই এমন বিরতি পড়েনি। শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্যই এই বিরতি নিয়েছিলেন।

এখন ভালোয় ভালোয় সব পার করেছেন। তাই গানেও ফিরেছেন এই গায়িকা। ঈদে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করবেন নতুন গান ‘তুমি এলে’। নুরুল ইসলাম মানিকের লেখা, ফয়সাল আহমেদের সুরে গানটির সংগীতায়োজন করেছেন মীর মাসুম। শিগগিরই নির্মাণ করবেন ভিডিওচিত্র। এ ছাড়া কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলেও গাইবেন।

লিজা বলেন, ‘ঈদে আমার একটা নাচপ্রধান গান প্রকাশ করার কথা ছিল। এ অবস্থায় গানটির শুটিং করা ঠিক হবে না দেখেই সফট রোমান্টিক গানটা প্রকাশ করছি। নিজেকে ফিট মনে করলে শিগগিরই গানটিও প্রকাশ করব।’

স্টেজ শো
মঞ্চে যে কজন বাংলাদেশি গায়িকার চাহিদা বেশি তাঁদের অন্যতম লিজা। স্টেজ শোর মৌসুমে মাসের ২৫-২৬ দিনই গাইতে হয় তাঁকে। তবে এখন স্টেজ শো করার ক্ষেত্রে অনেক কিছুই ভাবতে হচ্ছে তাঁকে। ঢাকার বাইরের শো হাতে নিচ্ছেন না, তারপর আউটডোর শো হলেও ক্রাউডের বিষয়টা মাথায় রাখছেন। খোলা মাঠে হাজার হাজার দর্শকদের সামনে গাইতে গেলে প্রচুর প্রাণশক্তির দরকার, কারণ গানের তালে অনেক সময় নাচতেও হয়। তাই সহজে এ ধরনের শো করতে চান না।

লিজা বলেন, ‘২৯ মে, ৩০ মে, ৬ জুন ও ঈদের পরদিন শো করার প্রস্তাব এসেছে হাতে। কিন্তু কাউকে এখনো চূড়ান্ত করিনি। বাচ্চাটা এখনো ছোট, এই সময় তাঁকে রেখে আউটডোর শো করাটা ঠিক হবে না। আরো কিছুদিন সময় নিতে চাই। সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে স্টেজ শোতে ফিরব। তার আগে হয়তো দু-চারটা শো করতেও পারি।’

ইয়াশা বাংলাদেশেই থাকবে
জন্মসূত্রে ইয়াশা আমেরিকার নাগরিক। তবে লিজা চান মেয়ে বাংলাদেশেই থাকুক, এখানেই পড়াশোনা করুক। কারণ বাংলাদেশে থাকলে সন্তান পারিবারিক বন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবে।

লিজা বলেন, ‘আমেরিকায় সবাই নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন। বাচ্চারা বাচ্চাদের মতো স্কুলে যায়। পরিবারকে কাছে কম পায় তারা। আমি চাই আমার মেয়েটা সবার সঙ্গে হাসি-আনন্দে বেড়ে উঠুক। যদিও তার স্কুলে যেতে আরো তিন-চার বছর দেরি আছে। জানি না তখন কি সিদ্ধান্ত নেব, তবে আপাতত আমার ইচ্ছা এটাই, ইয়াশা বাংলাদেশেই থাকবে।’

LEAVE A REPLY